রেজাউল করিম (কক্সবাজার) উখিয়া
লিখিত সিদ্ধান্ত ছাড়া অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা এলাকাবাসীর
উখিয়া উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের মরিচ্যা–পাতাবাড়ী সড়কে সিএনজি ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। মাত্র চার কিলোমিটার দূরত্বের এই রুটে বর্তমানে যাত্রীদের কাছ থেকে ২০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, যা এলাকাবাসীর মতে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও অস্বাভাবিক।
স্থানীয়দের দাবি, মরিচ্যা থেকে কোটবাজার ভাড়া ১০ টাকা এবং কোটবাজার থেকে উখিয়া ভাড়া ১০ টাকা—দুই অংশ মিলিয়ে দীর্ঘতর দূরত্বে মোট ভাড়া যেখানে ২০ টাকা, সেখানে স্বল্প দূরত্বের মরিচ্যা–পাতাবাড়ী রোডে এককভাবে ২০ টাকা নেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। এতে প্রতিদিন যাতায়াতকারী নিম্নআয়ের মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে।
জানা যায়, অতীতে এই সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক থাকায় ১০ টাকা ভাড়া থেকে বাড়িয়ে ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে রাস্তার অবস্থা অনেক উন্নত হয়েছে। তা সত্ত্বেও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে ভাড়া বাড়িয়ে ২০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। অথচ পাশ্ববর্তী ভালুকিয়া ও সোনাপাড়া রোডে গত ৩–৪ মাসে কোনো ভাড়া বৃদ্ধির নজির নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পাতাবাড়ী বাজার হয়ে মরিচ্যা এলাকায় প্রতিদিন প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। এলাকার অধিকাংশ মানুষ নিম্নআয়ের শ্রমজীবী হওয়ায় অতিরিক্ত ভাড়া তাদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত ভাড়ার প্রতিবাদ করলে চালকেরা গাড়িতে তুলতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না, যা অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে একাধিক যাত্রী বলেন, “মহাসড়কে সবসময় ভাড়া তুলনামূলক কম থাকে, কিন্তু মফস্বল এলাকার রাস্তাগুলোতে ভাড়া বেশি নেওয়া হয়। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সবার সাথে বসে আলোচনা করে একটি নির্ধারিত ও যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা উচিত।”
সিএনজি চালক ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংগঠনের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। লাইনম্যান জানান, কার্যলয়ে আলোচনা সভা হয়েছে এবং ২/৩ দিনের মধ্যে অফিস থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত বা অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
সচেতন মহলের অভিমত, যদি সত্যিই ভাড়া ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা প্রয়োজন। অন্যথায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সম্পূর্ণ অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ অবস্থায় স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত সবার সাথে আলোচনা করে নির্ধারিত ও যৌক্তিক ভাড়া বাস্তবায়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করা হবে।

