মোঃ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান:
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত অবনতির দিকে যাচ্ছে। সরকারের নমনীয় মনোভাব পুরো সিস্টেম জনসাধারণের বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। সরকারের ঘরে বাইরে শুধু একটাই কাজ চলমান রয়েছে সেটা হল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা আর নিয়মিত কেবিনেট মিটিং করা। এগুলোর বাইরে গিয়ে বর্তমান অন্তবর্তী সরকার তেমন কোনো সফলতা দেখাতে পারেনি এখনো পর্যন্ত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে গেলেও কঠোর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করার কারণে অবৈধ শক্তি এখনো মাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে অপশক্তি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ব্যাহত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।
অন্তবর্তী সরকার নিয়মিত রুটিন কাজের বাইরে তেমন কোন কাজ সম্পন্ন না করলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠুভাবে জাতিকে উপহার দেয়ার জন্য যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তা সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এতে দেশের বড় দলগুলো নির্বাচনের পক্ষে মতামত দিলেও ছোট কয়েকটি দল নির্বাচনের বিপক্ষে রয়েছে বলে মনে হয়। কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে তা নিয়ে তর্ক বিতর্ক চলমান থাকলেও নির্বাচন কমিশন থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সংবিধানের বাইরে গিয়ে অন্য কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন করা আপাতত সম্ভব নয়। সরকারের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করে রাজনৈতিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া মোটামুটি চলমান রেখেছে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি প্রথম দিকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জাতীয় নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই ফ্যাসিবাদী অপশক্তি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও সঠিকভাবে নির্বাচন যাতে আয়োজন করতে না পারে তার নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। যদিও সরকার প্রধানের সুদৃঢ় বক্তব্য হলো যত বাধাই আসুক আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। তাই এখন থেকেই অন্তবর্তী সরকারকে আরো কঠোর অবস্থান নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে নির্বাচনের বিপক্ষে চলে না যায় তার জন্য কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
দেশের প্রায় বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের একটাই লক্ষ্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী ত্রয়ো ১০ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করে একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে দেশের অস্তিতিশীল পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসার জন্য এবং সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো। তার জন্য দরকার রাজনৈতিক ঐক্যবদ্ধতা। একমাত্র রাজনৈতিক ঐক্য পারে দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসতে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত বাংলাদেশের মানুষ বর্তমান অন্তবর্তী সরকার প্রধান ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুস সাহেবের মর্যাদা কি সেটা বুঝতে পারিনি তাই তাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে না পারাই বাঙালি জাতির দুর্ভাগ্য। সরকারের দু একজন উপদেষ্টা ছাড়া বাকিরা অত্যন্ত ভালো মানুষ এবং নির্লোভী তাই তারা হয়তো প্রশাসনকে শক্তভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন চলাকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি না ঘটে তার দিকে খেয়াল রেখে সরকারকে আরো কঠোর হতে হবে।
নির্বাচন যে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টায় আছে সেটার অনেক ধরনের প্রমাণ রেখে যাচ্ছে ফ্যাসিবাদীরা। কয়েকদিন আগে গন অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর যেভাবে হামলা করা হয়েছে প্রশাসনিক লোকজন দিয়ে সেটাকে খুব ছোট করে দেখার কোন বিষয় না। কারণ বর্তমান অন্তবর্তী সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলো যে সহযোগিতা করে যাচ্ছে এমতাবস্থায় নুরুল হক নূরকে প্রশাসনিক লোকজন হামলা করতে পারে না। এটা একমাত্র ফ্যাসিবাদী লোকজনের কাজ তারা প্রশাসনের ভেতরে থাকা নিজেদের লোকগুলোকে খুঁজে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে যার কোন প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। এই জায়গায় এসেও সরকার এখনো কঠোর হতে দেখা যায়নি। আগামীর জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অবশ্যই অন্তবর্তী সরকারকে আরো কঠোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।

