মোঃ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম ব্যুরো:
স্মরণকালের জুলুসে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম। এবারের জুলুস জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা জানান। আঞ্জুমানে রহমানিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট এর আয়োজনে মহান ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত ৫৪ তম জুলুসের শোভাযাত্রা জনসমুদ্রের রূপ নিয়েছে।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা প্রিয় নবীর আগমনের ১২ই রবিউল আউয়ালের এই দিনকে স্মরণ করে রাখার জন্য এই জুলুসে অংশগ্রহণ করে থাকে। আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্য লাভের আশায় এবং ইতিহাসের অংশ হতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চট্টগ্রামে আয়োজিত এই জুলুসে অংশগ্রহণ করে থাকে। পাকিস্তানের সিরিকোট দরবার শরীফের আল্লামা হযরত সৈয়দ মোহাম্মদ তাহের শাহ এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হইয়ে আসা এই জুলুসকে বর্তমান নেতৃত্ব দেয় সিরিকোট দরবার শরীফের অন্যতম সাজ্জাদানশীন আলহাজ্ব সৈয়দ মোঃ সাব্বির শাহ।
লক্ষীপুর থেকে আসা আবু সায়েম খুব আবেগ নিয়ে বলল আজকের দিন টা মুসলমানদের জন্য ঐতিহাসিক দিন এই দিনে প্রিয় নবী দুনিয়াতে আগমন ঘটেছিল আমরা যারা মুসলিম রয়েছে তাদের অবশ্যই এই আয়োজনের সাথে সংযুক্ত থেকে ইতিহাসের অংশ হওয়া উচিত। যারা প্রিয় নবীকে ভালোবাসে তারা অবশ্যই আজকের দিনে ঘরে বসে থাকবে না। জসনে জুলুস মানে ইসলামের একটি অংশ।
জুলুস সরজমিনে দেখা যায় সকালে মুরাদপুর এলাকায় অবস্থিত জামিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা ময়দান থেকে আলহাজ্ব সৈয়দ মুহাম্মদ সাব্বির শাহ এর নেতৃত্বে মুরাদপুর দুই নাম্বার গেট জিইসি ওয়াসার মোড় সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই পথে জামিয়া ময়দানে ফিরে আসে। জোহরের পর থেকে বয়ানে অংশ নেন লক্ষ লক্ষ মুসল্লী। আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের আশায় লক্ষ লক্ষ মুসলিম আজ এই ঐতিহাসিক জসনে জুলুসের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেছে বলে আগত মুসল্লিরা জানান।
আয়োজকরা জানান প্রিয় নবীর আগমনের আজকের এই দিনে যে শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয় এতে মুসলিম বিশ্বের সকল মুসল্লিদের মাঝে প্রিয় নবীর আগমনের বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়। সকল ঈদের সেরা ঈদ ঈদে মিলাদুন্নবী এই স্লোগানকে বুকে ধারণ করে রেখে মুসলিম সমাজ আজকের দিন পালন করে থাকে। আজকের দিন দিন হল মুসলমানদের বড় ঈদের দিন। সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।
ছোট-বড় বৃদ্ধ সকল বয়সের মুসলিম সমাজ এ মহান জুলুসে হাজির হতে দেখা গেছে। শুধুমাত্র প্রিয় নবীর টানে সকল বয়সের মুসল্লিরা জুলুসে হাজির হয়। জুলুস চলাকালীন পথে পথে তবারকের ব্যবস্থা করেছে অনেকেই। ক্লান্ত হলে পিপাশা গ্রস্থ হলে পানি বা শরবত এগিয়ে দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকরা। আঞ্জুমানের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। এক কথায় উত্তাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছিল চট্টগ্রামের আজকের জুলুস।

