swadhinshomoy
16th Aug 2025 7:03 am | অনলাইন সংস্করণ Print
নাজমুল কবীর,রাজৈর-মাদারীপুর:
মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার একমাত্র সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজৈর গোপালগঞ্জ কে,জে,এস পাইলট ইন্সটিটিউশন স্কুল এ্যান্ড কলেজ। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এ পড়ালেখা করে পাশ করে অনেকেই গ্রহণ করেছন উচ্চ শিক্ষিা। ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ রয়েছেন বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত।
১৯৭০–৯০ দশকের শিক্ষার্থীদের মনে প্রানে ধারন করে রাজৈর গোপালগঞ্জ কে,জে এস পাইল ইন্সটিটিউশনকে এটা শুধু একটি স্কুল নয়, বরং আমার আপনার কৈশোর, আমার আপনার আবেগ জড়িত বিদ্যালয়।
আমরা যারা এই স্কুলে অধ্যয়ন করেছি, তাদের স্মৃতিতে ভেসে উঠছে এই স্কুলের হেসে খেলে দুষ্টামি দূরন্তপনা কত না স্মৃতি । আর এই কারণে বিদ্যালয়ের সাফল্যে যেমন হৃদয়ে আনন্দ বয়ে যায়, তেমনি ব্যর্থ হলে হৃদয়ে শুরু হয় রক্ত ক্ষরন।
এক সময় বিদ্যলয়টি ছিল দোচালা টিনের ঘর সেখানে এখন হয়েছে কংক্রিটে তৈরি তিন তলা ভবন।
এক সময় বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ছিল উন্মুক্ত এখন প্রাচীর দ্বারা ঘেরা, দৃষ্টি নন্দন প্রবেশদ্বার। মাঠের চার পাশে পাকা সড়ক। সব কিছুতেই লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া কিন্তু বর্তমান কালে বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মান মাধ্যমিক (এস,এস,সি) রেজাল্টে সাফল্য চোখে পড়ার মত নয়। তাহলে এর কারন কি? অতি মাত্রায় আত্মবিশ্বাস নাকি প্রশাসনের দ্বায়িত্বে অবহেলা? বর্তমানে এক ঝাক যুব মেধাবী শিক্ষকমণ্ডলী দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে পাঠদান অথচ ফলাফলের নাজুক অবস্থা।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক অলিক কুমার ধর এর কাছে স্কুলের সার্বিক পরিস্থিতি ও পড়াশুনার মান ও ২০২৫ সালের মাধ্যমিক (এসএসসি) ফলাফলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২৪ এর জুলাই ট্রাজেডির কিছুটা প্রভাব পড়েছে ফলাফলে দেখা যায় ২০২৫ সালে পরিক্ষাথী ১৪৬ পাশ করেছে ৭৬জন, অকৃতকার্য হয়েঋেন ৭০ জন, পাশের হার ৫২% এ প্লাস পেয়েছেন। এ বছর বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে গনিতে।
জনাব অলিক কুমার ধর গত ৫/১/২০০৯ সালে অত্র বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। তিনি যোগদান করেন এমপিও স্কুলে। এরপর বিদ্যালয় টি ট্রাষ্ট হিসেবে পরিগনিত হয়। এরপর ২০১০ সালে স্কুলটি মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ২০১২ সালে স্কুল এর সাথে কলেজ শাখা খোলা হয়। ২১/৫/২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠান কে জাতীয়করণ করা হয়।
অপরদিকে স্কুল শাখায় বাংলা বিষয়ে কোন শিক্ষক নেই, সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক দিয়ে বাংলা ক্লাস নেয়া হচ্ছে। ইংরেজি বিষয় শিক্ষক নেই অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের দিয়ে স্কুল শাখার ক্লাসে পাঠদান করান বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন আমাদের শিক্ষক প্রয়োজনের তুলনায় কম।
এছাড়া স্কুল শাখায় বিষয় ভিত্তিক শিক্ষকের সমস্যা আছে।
কিন্তু দেখা যায় স্কুল শাখায় গনিতে তিনজন শিক্ষক থাকা সত্বেও বেশির ভাগ গনিতেই ফেল করেছে। তাহলে কি গণিতের শিক্ষকগন ক্লাশে পাঠদান করান না।
দেখা যায় অত্র বিদ্যালয়ে মোট ১৮ জন শিক্ষক রহিয়াছে প্রধান শিক্ষক ১ জন, সহকারী প্রধান শিক্ষক -১ জন, ইংরেজি -৩ জন, গণিত- ৩জন, সমাজ বিজ্ঞান -৫জন, হিন্দুধর্ম-১জন, কম্পিউটার -১জন, কৃষিশিক্ষা -১জন, ব্যবসাশিক্ষা -১ জন, লাইব্রেরীয়ান-১ জন,মোট-১৮ জন
কলেজ শাখায় শিক্ষক সংখ্যা – ১০ জন,বাংলা ইংরেজি সমাজ কর্ম পৌরনীতি ব্যবসাশিক্ষা গণিত ক্যামষ্ট্রি বাইলোজি ফিজিক্স।
বর্তমান ২০২৫ সালে এসে অত্র স্কুল শাখায়- মোট শিক্ষার্ঘী-৬৮৭জন এবং
কলেজ শাখায়-২৪২ জন।
এক সময়ের এই ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য স্কুলের বর্তমান পরিস্থিতি নাজুক। এ ভাবে চলতে থাকলে এই স্কুলের নাম,জস খ্যাতি অচিরেই মিশে যাবে মাটিতে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি প্রাচীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে অতি জরুরী যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য।
উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের
+88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।

