মোঃ সিরাজুল ইসলাম রনি,ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধিঃ
ঝালকাঠি জেলার কাঠালিয়া উপজেলার একমাত্র ফায়ার সার্ভিস স্টেশনটি বর্তমানে চরম সংকটে রয়েছে। জনগণের সেবায় নিয়োজিত অ্যাম্বুলেন্সটি গত ছয় বছর ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে দুর্ঘটনায় আহত কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। কাঠালিয়া থেকে নিকটতম আমুয়া হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার হওয়ায় এ সেবার অভাব স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি করেছে।
এছাড়া স্টেশনের পুরনো পানিবাহিত গাড়িটিও প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে। ফলে কোথাও আগুন লাগলে দ্রুত নির্বাপণ করা সম্ভব হয় না। মাত্র একটি কার্যকর গাড়ির ওপর ভরসা করে চলছে পুরো উপজেলার অগ্নি-নির্বাপণ কার্যক্রম।
স্টেশন প্রধান সাব-অফিসার মোঃ অদুদ হাওলাদার জানান,
“আমি এক বছর আগে এখানে যোগদান করেছি। আমাদের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় ছয় বছর আগে কনডেম হয়ে গেছে। অনেক চেষ্টা করেও নতুন অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে পারিনি। জনগণ রাত-বিরাতে সেবা নিতে এলে আমরা তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে না পেরে কষ্ট পাই। দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার সুযোগ থাকলে বহু মানুষ উপকৃত হতো।”
ফায়ার ফাইটার মোঃ আজগর আলী বলেন,
“আমরা সর্বদা মানুষের সেবায় প্রস্তুত। কিন্তু গাড়ি কিংবা অ্যাম্বুলেন্স না থাকলে কাঙ্ক্ষিত সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব নয়।”
স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার রতনশীল জানান,
“দীর্ঘদিন যাবত আমরা ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স সেবা থেকে বঞ্চিত। অগ্নিকাণ্ড প্রতিদিন ঘটে না, কিন্তু দুর্ঘটনা যেকোনো সময় ঘটতে পারে। এ অবস্থায় একটি অ্যাম্বুলেন্স অত্যন্ত জরুরি।”
বটতলা বাজারের প্রবীণ ব্যবসায়ী মাস্টার মজিবুর রহমান বলেন,
“অ্যাম্বুলেন্সটি খুবই জরুরি। এলাকাবাসীর একমাত্র দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হোক।”
এলাকার সাধারণ নারী-পুরুষও একই দাবি জানিয়েছেন—যেন দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করে জনগণের জন্য পূর্বের মতো কার্যকর সেবা নিশ্চিত করা হয়।
বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস অন্যতম। তারা দিন-রাত নিরলসভাবে জনগণের পাশে থাকে। দুর্ঘটনার সময় বা পরবর্তীতে কখনোই সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে কোনো বকশিশ কিংবা অতিরিক্ত সুবিধা দাবি করে না। তাই কাঠালিয়ার মানুষ দ্রুত নতুন অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসকে পূর্ণ সক্ষমতায় দেখতে চায়।

