হৃদয় শীল পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ
সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-১ আসন। পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৪০ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৩৪৩ জন। মির্জাগঞ্জের ৬টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ১ লাখ ১৯ হাজার ১০৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬০ হাজার ২০০ জন এবং মহিলা ভোটার ৫৮ হাজার ৯০৬ জন। দুমকির ৫টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৭৫ হাজার ১৬৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৭ হাজার ৬৮২ জন এবং মহিলা ভোটার ৩৭ হাজার ৪৮১ জন। চলতি মাসের ৩০শে আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হলে এ আসনে ভোটার সংখ্যা আরও বৃদ্ধি হতে পারে বলে জেলা নির্বাচন অফিসার ওহিদুজ্জামান মুন্সি ধারণা করছেন।
তবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। যদিও নির্বাচনের তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি। এরইমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে বেশ উৎফুল্ল ভোটাররা। অনেকেই প্রথমবারের মতো ভোট দিবেন। আবার অনেকে দীর্ঘদিন ভোট না দিতে পারার আক্ষেপ ঘোচাতে চান। সবার মুখে মুখে নির্বাচনের আলাপ। জমে উঠেছে চায়ের দোকান। সেখানে বসেই হিসাব কষছেন ভোটাররা। আর নির্বাচনী মাঠ গোছাতে মরিয়া রাজনৈতিক দলগুলো। ভোটারদের মনে জায়গা করে দলীয় নেতাকর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। তারা ভোটারদের নিজেদের পক্ষে আনতে অবলম্বন করছেন নানা কৌশল। দিচ্ছেন নানা আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতি। ভোট নিয়েও বেশ সচেতন ভোটাররা। করছেন চুলচেরা বিশ্লেষণ।
নির্বাচনকে ঘিরে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও গণঅধিকার পরিষদ একজন করে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাকি দলগুলো থেকে একজন করে সম্ভাব্য প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিএনপি থেকে সম্ভাব্য দু’জন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। তারা হলেন- কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপি’র কাউন্সিলে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি। তারা দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। করছেন গণসংযোগ। নির্বাচনী মাঠ গোছাতে রয়েছেন তৎপর। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর প্রবীণ আইনজীবী এডভোকেট মো. নাজমুল আহসান। তিনি এর আগে সফলভাবে জেলা জামায়াতের আমীর ও সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয়ভাবে তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
এ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন জেলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মুফতি মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। তিনি দীর্ঘ ১০ বছর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জেলা কমিটির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি কলাপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতির পদে এখনো দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৪ আসন থেকে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সমপ্রতি কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডা. মো. মুস্তাফিজুর রহমান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগ দেন। এজন্য এ আসনটিতে তাকে মনোনীত করেছে দলের হাইকমান্ড। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী দলটির জেলা সভাপতি ও জামিয়া আশরাফিয়া মাদানিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস মাওলানা আব্দুল হক কাওসারী। গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী হলেন দলটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক উপ-কমিটির প্রধান সমন্বয়ক কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম। গত ১৬ই জুন পটুয়াখালীতে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় সভায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসু’র সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর নিজেই তাকে পটুয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। তার পক্ষে দলীয় নেতাকর্মীদের কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব এবং জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা। এ ছাড়া এ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মনোনীত প্রার্থী হয়ে মাঠ গোছাতে চেষ্টা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিনিয়ার ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মেজর (অব.) আব্দুল ওহাব মিনার। বাংলাদেশ খিলাফত মজলিসের (আল্লামা মামুনুল হক) একক সম্ভাব্য প্রার্থী হলেন জেলা বাংলাদেশ খিলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ আব্বাস আলী। উল্লিখিত প্রার্থীরা নিজেদের দলীয় অবস্থান থেকে নির্বাচনী মাঠ গোছানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

