আব্দুল আজিজ, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার খেসবা গ্রামের প্রধান সড়কটি যেন দুর্ভোগের প্রতীক। গত প্রায় ২৯ বছর ধরে এই সড়কের কোনো সংস্কার হয়নি। বর্ষা মৌসুম তো বটেই, বছরের প্রায় সময়ই রাস্তা ভাঙাচোরা, খানাখন্দ ও জলাবদ্ধতার এক ভয়াবহ চিত্র ধারণ করে থাকে।
প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে রোগী পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই এই ভগ্নদশা রাস্তাটি আজ এক মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
আধুনিক যুগে মধ্যযুগীয় দুর্দশা
স্থানীয়দের ভাষায়—এটা আর রাস্তা নয়, ধ্বংসস্তূপ। আধুনিক যুগে থেকেও আমরা যেন মধ্যযুগীয় দুর্দশার শিকার।
বৃষ্টির মৌসুম এলেই দুর্ভোগের মাত্রা চরমে ওঠে। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাজুড়ে জমে যায় কাদা ও পানি। ফলে ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও চলাফেরা করা দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে।
গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের ক্ষোভ নিয়ে বলেন,
আমরা ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বানাই, কিন্তু আমাদের রাস্তার খোঁজ কেউ নেয় না। প্রতিদিন ছাগলের মতো হোঁচট খেয়ে চলতে হয়। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া মানে জীবন বাজি রেখে যাত্রা।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকিতে
এই রাস্তার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। স্কুলছাত্রী লিজা খাতুন বলেন,
“স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট হয়। জামাকাপড় কাদায় ভিজে নষ্ট হয়, আবার কখনো পড়ে গিয়ে আঘাতও পাই। নিয়মিত স্কুলে যাওয়া আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”
অভিভাবকদের অভিযোগ, রাস্তার দুরবস্থার কারণে অনেক শিশু প্রতিদিন স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করে। ফলে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
কৃষকের স্বপ্ন ভেসে যাচ্ছে কাদায়
রাস্তার কারণে কৃষকরাও মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। ক্ষেত থেকে উৎপাদিত ধান, আলু, ভুট্টা, পেঁয়াজসহ নানা কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়ে গাড়ি আটকে যায়, ভাড়া বেড়ে যায় দ্বিগুণ-তিগুণ। অনেক সময় সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় পণ্য পচে নষ্ট হয়।
স্থানীয় কৃষক মোঃ আলাউদ্দিন বলেন,
“সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে রাস্তা বানাচ্ছে, অথচ আমাদের গ্রামে ২৯ বছর ধরে এক টাকার কাজও হয়নি।”
শুধু আশ্বাসের বাণী, কাজের দেখা নেই
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থেকেছে জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীলরা।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এই রাস্তা টেকসইভাবে সংস্কার করতে হবে। না হলে আগামী বর্ষায় জনদুর্ভোগ সীমাহীন আকার ধারণ করবে। তাদের ভাষায় এই রাস্তা দিয়ে মানুষ নয়, ছাগলও চলতে চায় না।

