মোঃ সিরাজুল মনির কক্সবাজার থেকে ফিরেঃ
কক্সবাজারে তারকা মানের হোটেল গেস্ট হাউস গড়ে উঠলেও পরিকল্পিত কোন পার্ক ও উন্নত মানের বিনোদনকেন্দ্র এখনো পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। শহর কেন্দ্রিক কোন পার্ক না থাকার কারণে এখানে ভ্রমণে আশা পর্যটকরা সুস্থ বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। হোটেলের ভিতরে যে বিনোদন পাওয়া যায় সেটা উন্মুক্ত কোন বিনোদন নয়। পর্যটকরা তাদের পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে অবকাশকালীন যে সময় কাটাতে আসে তা মূলত সি বিচ কেন্দ্রিক এবং হোটেল কেন্দ্রিক হয়ে যায়। কক্সবাজার শহরের অদূরে কলাতলী সী বিচ পয়েন্ট থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে হিমছড়ি যে পার্ক রয়েছে সেটা মূলত পাহাড়ের উপরে। পাহাড়ের উপরে এটা গড়ে উঠায় মূলত রাইড কেন্দ্রিক কোন বিনোদন পর্যটকরা পায় না।
আবার কক্সবাজার যাওয়ার পথে চকরিয়া ডুলাহাজারা যে সাফারি পার্ক রয়েছে সেটা মূলত ইকোপার্ক এখানে পশুপাখি দেখতে যাই পর্যটকরা। এটার কোনটাই শহরকেন্দ্রিক না হওয়াতে কক্সবাজারের মূল শহর থেকে এই পার্কগুলো ভ্রমন করতে গেলে আলাদা করে একদিন সময় লেগে যায় তাই শহরকেন্দ্রিক একটি পার্ক এবং বিনোদন কেন্দ্র পর্যটকদের আরও আকৃষ্ট করবে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
কক্সবাজারের ব্যবসায়ী শফিউর রহমান জানায় কয়েক বছর আগে আমরা কিছু ব্যবসায়ী মিলে লিংক রোডের পাশে একটি বড় রকমের পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলাম কিন্তু সরকারিভাবে কোন ধরনের সহযোগিতা না পাওয়ায় সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি। বর্তমানে আইকনিক রেলস্টেশন নির্মাণ হয়েছে কক্সবাজারে যা বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কক্সবাজারের পর্যটন খাতকে আরো উচ্চপর্যায়ে নিয়ে গেছে সারা দেশের সাথে কক্সবাজারের রেল যোগাযোগের কারণে। তাই এখনই কক্সবাজার শহর কেন্দ্রিক একটি আধুনিক পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ করলে ভ্রমণে আশা পর্যটকদের পুরো ভ্রমণকে সার্থক করে তুলবে বলে আমার ধারণা।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক জানান সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে কক্সবাজার শহরকেন্দ্রিক একটি উন্নত পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ করা যায়। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এ ধরনের ভালো কাজে সরকার সব সময় বদ্ধপরিকর। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বর্তমানে পর্যটনের এই দিকটা দেখভাল করে তাই উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে কক্সবাজার শহরে আধুনিক একটি পার্ক নির্মাণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে আসলে তাদেরকে পুরো সহযোগিতা করবে বলেও জেলা প্রশাসক জানান।
দেশের সর্ববৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার এবং বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত এখানে থাকায় আধুনিক হোটেল মোটেল এবং রিসোর্ট গড়ে উঠেছে হাজার হাজার। হোটেল এবং রিসোর্ট কেন্দ্রিক বিনোদন কেন্দ্রগুলো থেকে বাইরের পর্যটনকেন্দ্র গুলোর সাথে পর্যটকদের যুক্ত করলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে বলেও অভিজ্ঞদের অভিমত।

