মোঃ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম ব্যুরো:
চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড উপজেলা ভৌগলিক কারণে এবং শিল্পায়নের জন্য এই উপজেলা উভয় গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে ৩০ কিলোমিটার উত্তরে এই উপজেলার অবস্থান। একটি পৌরসভা এবং নয়টি ইউনিয়ন নিয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা গঠিত। ৪৮৩ বর্গ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে এটাই বিস্তৃত। চট্টগ্রামের অন্যান্য উপজেলা গুলোর মধ্যে সীতাকুন্ড উপজেলাটি বাণিজ্যিক শিল্পায়নের জন্য বিখ্যাত। এটি মূলত কৃষি অঞ্চল হলেও অনেক বড় বড় শিল্প-কারখানা এখানে থাকার কারণে এটাকে শিল্পাঞ্চল বললেও ভুল হবে না। পর্যটনের দিক থেকেও পিছিয়ে নেই এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। চট্টগ্রামের ১২ আউলিয়ার মাজার রয়েছে এই উপজেলায়। বঙ্গোপসাগরের বিশাল একটা জায়গা জুড়ে রয়েছে সীতাকুন্ড উপজেলার অবস্থান। অন্য পাশে পাহাড়ের দীর্ঘ সারী পর্যটন খাতকে এনে দিয়েছে অনন্য উচ্চতায়। দেশের প্রথম ইকো পার্ক হলো সীতাকুণ্ড ইকোপার্ক।
নগরীর খুব কাছের উপজেলা হওয়ায় ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। ঢাকা-চট্টগ্রামের প্রধান সড়কের সাথে এর উপজেলার অবস্থান হওয়ায় যোগাযোগের সুবিধার কারণে সকল ধরনের ব্যবসায়ীরা এখানকার জায়গাগুলোকে বেছে নেন শিল্প কারখানা স্থাপন করার জন্য। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পর্যটনের নিদর্শন সমূহ। ইকোপার্ক গুলিয়াখালী সী বিচ সহ এখানে রয়েছে অসংখ্য পর্যটনের নিদর্শন যা দেখার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটকরা ছুটে আসে এখানে। বিদেশি পর্যটকরা এই অঞ্চলকে বেছে নিয়েছে পাহাড় সমুদ্র পর্যটন নগরী হিসেবে। সড়ক যোগাযোগ এবং রেলপথ সীতাকুন্ড উপজেলার উপর দিয়ে যাতায়াত করে। কৃষি প্রধান এই অঞ্চলে দেশী পেয়ার এবং শিম বিখ্যাত যা নির্দিষ্ট এলাকার বাইরেও রপ্তানি করা হয়।
বিশ্বের সবচাইতে বৃহৎ এবং প্রথম জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প এখানে গড়ে উঠেছে। শত শত পুরনো জাহাজ এখানে কাটা হয় এবং রিসাইক্লিং করে নতুন জাহাজ নির্মাণে কাজে লাগায়। হাজার হাজার শ্রমিক জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের সাথে জড়িত। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শ্রমিকরা সীতাকুণ্ড এলাকায় এসে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। দেশের রাজস্বের গৃহৎ একটি অংশ এই অঞ্চলের শিল্প কারখানার থেকে যুক্ত হয় সরকারি তহবিলে। দেশের বড় বড় রড কোম্পানির ফ্যাক্টরি সীতাকুন্ড এলাকায় অবস্থিত। বড় বড় কন্টেইনার ডিপো এখানে জায়গা করে নিয়েছে অনেক আগেই। তবে এখানকার শিল্প মালিকরা শ্রমিকদের উপর বিভিন্ন প্রকারের চাপ সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অঞ্চলের জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প এবং অন্যান্য শিল্প কারখানার শ্রমিকদের নিয়ে অনেক সংগঠন কাজ করে তারা মূলত শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে শিল্প মালিকদের সাথে একটি যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে।
চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ব্যবসায়ী মাহফুজুল হক শাহ বলেন চট্টগ্রাম বন্দর যেমন দেশের রাজস্বের অক্সিজেন তেমনি সীতাকুণ্ড উপজেলার মাটি হল রাজস্ব তৈরীর কারখানা। দেশের অবকাঠামো নির্মাণে যে রড তৈরি হয় তার প্রায় সবগুলো ফ্যাক্টরি সীতাকুন্ড এলাকায় এখান থেকে রাজস্বের অনেকটা যুক্ত হয় সরকারি তহবিলে। শিল্পায়নের দিক দিয়ে সীতাকুন্ড উপজেলা অনবদ্য অবদান রেখেছে। দেশের ব্যবসায়ীরা যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়ক পথ এবং রেলপথ ব্যবহারের সুযোগ থাকায় এ অঞ্চলে শিল্প কারখানা গড়ে তোলার জন্য আগ্রহী হয়ে ওঠে।
ব্যবসায়ীরা জানান সরকার সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরো শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার জন্য ব্যবসায়ীদেরকে অনুমতি দিলে দেশের শিল্প খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়বে। কিছু কিছু প্রশাসনিক সমস্যা যেগুলো সরকার ইচ্ছে করলেই সমাধান করতে পারে সে সব সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে দিলে আরো শিল্প কারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের বেকার সমস্যার সমাধান করা অনেকটা সহজ হয়ে যাবে।

