এইচ এম সাগর (হিরামন) খুলনা :
এবার খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ানে ১০৮ টি পুজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
২৮ সেপ্টেম্বর রবিবার থেকে মহাষষ্ঠীর মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা । দুর্গাপূজাকে প্রানবন্ত ও আকর্ষণীয় করতে বিভিন্ন পুজা মন্ডপ পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ধর্মীয় ও মাঙ্গলিক এবং বর্ণাঢ্য অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, দেবীর আবির্ভাব-কে ঘিরে ধর্মীয় আলোচনা,প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় পুজো ও আরতী, শঙ্খধ্বনি প্রতিযোগিতা, উলুধ্বনি প্রতিযোগিতা, মোমবাতি প্রজ্বলন,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নৃত্য পরিবেশন, ম্যাজিক ,সামাজিক ও ধর্মীয় নাটক। আগামী ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহাবিজয়া উপলক্ষ্যে মেলার মধ্যে দিয়ে শেষ হবে ।
প্রাচীন যুগে দুর্গাপূজা রাজা ও জমিদারদের পুজা হিসেবে প্রচলন ছিল । পরবর্তীতে তৎকালীন রাজা জমিদারের অনুমতি ক্রমে নিন্মবর্ণের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অর্থাৎ প্রজারা সম্ভাবত ১৫৫৬ খ্রীষ্টাব্দে সিন্ধু নদীর অববাহিকায় সর্বপ্রথম সার্বজনীন দূর্গাপূজা করার অনুমতি লাভ করে এবং তারপর থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে সার্বজনীন পূজা শুরু হয় । তবে প্রাচীন যুগে দুর্গাপূজা সম্পূর্ণ মূর্তি ছাড়া ঘটে পুজা হতো । তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গে অর্থাৎ বর্তমানে বাংলাদেশে রাজা সুরথ ও দেবাস নামের দুই মহামানব সর্বপ্রথম মূর্তি পূজা শুরু করেন । এরপর থেকে ভারতীয় উপমহাদেশে মূর্তিপূজা প্রচলন শুরু হয় । বসন্তকালে দুর্গা দেবীর পূজা হয় বলে বসন্তকালের দেবীকে বাসন্তীদেবী বলা হয় । আবার বসন্তকালের দেবিকে কালের দেবীও বলা হয় । ত্রেতাযুগে অযোধ্যার রাজা দশরথ নন্দন রঘুপতি ভগবান শ্রী রামের স্ত্রী সীতা দেবীকে লঙ্কাধীপতি দশানন রাবণ রাজা হরণ করে লঙ্কার পঞ্চবটী বনে নিয়ে যান । তখন ভগবান শ্রী রাম তাঁর স্ত্রী সীতা দেবীকে উদ্ধার করতে শক্তির আরাধনা করতে দুর্গা পূজা করেছিলেন । তিনি বসন্ত কালের দেবীকে শরৎকালে ডেকে পুজা করেছিলেন বলে উক্ত পুজাকে শারদীয় দুর্গাপূজা বলা হয় । তারপর পর থেকে শরৎকালের পুজাকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশে পুঁজিত হয়ে আসছে । অন্যদিকে শারদীয় দুর্গাপূজা কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়া সম্পন্ন করতে বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসনে আরা তান্নি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শোয়েব শাত-ঈল ইভান, থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুর রহিম ও আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন । উপজেলার ১০৮টি পুজা মন্ডপের মধ্যে ৯৫টি মন্ডপে ৬ জন আনসার সদস্য এবং বাকি ১৩টি ঝুঁকিপূর্ণ মন্ডপে ৮ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছে । পাশাপাশি যৌথ বাহিনী, রেব, ডিবি, জেলা পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং উপজেলার প্রতিটি পুলিশ ফাঁড়ি ও ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে টহল পুলিশের টিম এবং সাদা পোশাকে বিভিন্ন দপ্তরের গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা একযোগে কাজ করছে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের উদ্দ্যোগে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং মোবাইল কোর্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ।
সব মিলিয়ে এ উপজেলায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়া এবছরে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে । অপরদিকে শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের খুলনা-১ আসন থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা স্ব -স্ব দলীয় অনুসারীদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন শেষে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি অনুদানও প্রদান করছেন বলে জানাযায়।

