রিটন ইস্লামঃ
খোলা বাজারে (ওএমএস) সরকারের চাল ও আটা বিক্রিতে অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজধানীজুড়ে ৭০টি ওএমএস ট্রাক প্রতিদিন কাগজে কলমে বিক্রির তথ্য দেখালেও সরজমিনে দেখা গেছে, বাস্তবে বেশিরভাগ পণ্যই নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে না পৌঁছে ব্ল্যাক মার্কেটে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।
গত কয়েকদিন সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডে ডি-ওয়ান ডিলার রোকছেনা আলির ট্রাক এবং স্বামীবাগে মিতালি বিদ্যাপিঠ স্কুলের বিপরীতে ডি-টু ডিলার বেগম মালা আক্তারের ট্রাক পর্যবেক্ষণ করা হয়। দেখা যায়, তারা দিনের শেষে অবিক্রিত মালামাল ‘জমা’ হিসেবে দেখালেও অন্যান্য বেশ কিছু ট্রাকে প্রতিদিনই “সব বিক্রি” দেখিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডিলার জানান, আমাদের প্রতিদিন সব মাল বিক্রি হয় না। নিয়ম অনুযায়ী জমা দেখানো হয়। কিন্তু অনেক অসাধু ডিলার অবশিষ্ট মাল জমা না দেখিয়ে ব্ল্যাকে বিক্রি করে দেন। এই বিক্রির টাকাও নিচু থেকে শুরু করে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ হয়।
ডিলারদের আরও অভিযোগ, প্রতিদিনের বিক্রিতে তাদের মাত্র দুই শতাংশ কমিশন দেওয়া হয়, যা দিয়ে ট্রাক, শ্রমিক ও পরিবহন খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। একজন ডিলার বলেন, যদি কমিশন পাঁচ শতাংশ করা হয়, তাহলে কেউ আর অবৈধ পথে যেতে বাধ্য হবে না।
তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর বলছে, নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে-ওএমএসের চাল-আটা প্রকৃত নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে না পৌঁছে সিন্ডিকেটের হাতে চলে যাচ্ছে।
জনপ্রিয় এই সরকারি কর্মসূচি যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, সেজন্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও প্রশাসনিক তদারকি আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
পরবর্তী পর্বে প্রকাশিত হবে: সিন্ডিকেটের নেপথ্য কারা- নথি ও অডিও প্রমাণসহ বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন।

