মোঃ রেজাউল হক রহমত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরে সালিশ বৈঠককে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় একজন যুবক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সালিশের সর্দারসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক সন্দ্যা ৭টার দিকে নবীনগর আদালত পাড়ার কালীবাড়ি মোড় এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে মো. রাব্বি (২১) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নবীনগর সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
ঘটনার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— জসীম উদ্দিন বাছির (৫৫), আহসান উল্লাহ (৪৪), জুবায়েদ মুন্সি (২০), জাহিদ মিয়া (১৯) ও আতাউর রহমান (৪৮)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খুরশীদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, এর আগে একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৌরসভার জমিদার বাড়ি সংলগ্ন বালুরচর মাঠে দুই পক্ষের মধ্যে সালিশ দরবার বসে। সালিশ চলাকালে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সালিশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে কালীবাড়ি মোড়ে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা রাব্বিকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে।
গুলির শব্দে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মো. বিল্লাল হোসেন জানান, গুলির শব্দ শুনে বাইরে এসে তিনি এক যুবককে পিস্তল হাতে দৌড়ে পালাতে দেখেছেন, তবে কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় সালিশের সর্দারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।”
নবীনগর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. অংকন রায় জানান, আহত যুবকের বুকের বাম পাশের পাঁজরে গুলির ছিদ্র পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত রাব্বির মা জোহরা খাতুন বাদী হয়ে নবীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০–১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

