মোঃরেজাউল হক রহমত,ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি:
শীত মৌসুম এলেই সবজির বাজারে নেমে আসে বৈচিত্র্য। লালশাক, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুনসহ হরেক রকমের শীতকালীন সবজিতে ভরে ওঠে বাজার।
কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার সদর বাজার ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলো সবজিতে ঠাসা থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে সবজির দাম আগের চেয়ে অনেক কম।
এর অন্যতম কারণ হিসেবে তারা বলছেন, আমদানি বেশি এবং উপজেলার আশপাশের গ্রামগুলো থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ দেশি সবজি বাজারে আসছে।
ফলে সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে ক্রেতা বাড়েনি।
নবীনগর সদর বাজারের একাধিক সবজি বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোরবেলায় বাজারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।
তখন আশপাশের গ্রাম থেকে আসা দেশি সবজিতে বাজার ভরে যায় এবং ক্রেতারাও ভিড় জমায়। অনেকেই ভোরেই বাজার সেরে ফেলেন।
কারণ সেই সময়ে টাটকা শাকসবজি সহজে ও তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়।
এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও এলাকায় গড়ে ওঠা ছোট ছোট ‘বউবাজার’ নামক বাজারগুলোও বড় বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ।
এসব বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় শাকসবজি সহজেই পাওয়ায় অনেকেই আর শহরের বড় বাজারে আসছেন না।
ফলে সকাল দশটার পর নবীনগর সদর বড় বাজারে সবজি থাকলেও ক্রেতা চোখে পড়ে না বললেই চলে। বিক্রেতারা জানান, সারাদিন দোকান খোলা রেখেও কাঙ্ক্ষিত বিক্রি হচ্ছে না।
এতে করে লাভের বদলে অনেক সময় লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।
সব মিলিয়ে শীতকালীন সবজিতে বাজার ভরপুর হলেও ক্রেতা সংকটে পড়েছেন নবীনগর সদর বাজারের সবজি ব্যবসায়ীরা।
তারা আশা করছেন, সামনে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে এবং বাজারে আবারও ফিরবে ক্রেতার চেনা কোলাহল।

