সুমন দেবনাথ, বরিশাল প্রতিনিধি:
বরিশালের বানারীপাড়ায় শ্রীগুরু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রীমদ্ দুর্গাপ্রসন্ন পরমহংস দেবের স্মরণে শ্রীগুরু সংঘ, বানারীপাড়া শাখা সংঘের উদ্যোগে ২৪ প্রহর ব্যাপী শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞা অনুষ্ঠান সহ ৫ দিন ব্যাপী ধর্মীয় ও সেবামূলক উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে শ্রী গুরু সংঘের বানারীপাড়া শাখার সভাপতি, বন্দর বাজারের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী বাবু জহর সাহা ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক কৃষ্ণ বনিকের নেতৃত্বে আয়োজিত অধিবেশনে, সভায় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে ৫ দিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এসময় শ্রীগুরু সংঘ বানারীপাড়া শাখার কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সকল ভক্তবৃন্দ উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করেন।
শ্রীগুরু সংঘের উদ্যোগে মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান (শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান) একটি নিয়মিত আধ্যাত্মিক উৎসব, যা সংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্রী শ্রীমদ্ দুর্গাপ্রসন্ন পরমহংস দেবের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে দেশব্যাপী বিভিন্ন শাখা ও কেন্দ্রীয় আশ্রম সহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত হয়, যেখানে ২৪ প্রহরব্যাপী নাম সংকীর্তন, রাস উৎসব, ধর্মসভা, এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম (যেমন বিনামূল্যে চক্ষু শিবির) অনুষ্ঠিত হয়, যা বিশ্ব শান্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির লক্ষ্যে পরিচালিত হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী বনিকবাড়ি শ্রীগুরু মন্দির প্রাঙ্গণে শ্রীগুরু সংঘ প্রতিষ্ঠাতা পরিব্রাজকাচার্য্যবর শ্রী শ্রীমদ্ দুর্গাপ্রসন্ন পরমহংস দেবের শ্রী বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার ১৫ তম বর্ষ উপলক্ষ্যে ৫ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতি, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে সকলের উপস্থিতি কামনা করা হয় শাখা সংঘের পক্ষ থেকে।
অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে, ২৮ জানুয়ারি(২০২৬ ইং) বুধবার সঙ্ঘ পতাকা উত্তোলন, বিশেষ মাতৃসঙ্ঘ, শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠানের শুভ অধিবাস। ২৯, ৩০, ৩১ জানুয়ারি (বৃহস্পতি, শুক্র, শনিবার) শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠান। ০১ ফেব্রুয়ারি নগর কীর্তন ও পরিক্রমা, গুরু পুজা, ভোগরাগ, মহাপ্রসাদ বিতরণ।
জহর সাহা বলেন, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান, যেখানে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয় এবং এই অনুষ্ঠান একটি সামাজিক ও আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে।
কৃষ্ণ বনিক জানান, এই যজ্ঞানুষ্ঠানগুলি শ্রীগুরু সংঘের মূল বিশ্বাস ও আদর্শ প্রচারের পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে ঐক্য ও ভক্তিভাব জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সকলের সার্বিক সহযোগিতা, ভক্তবৃন্দ ও পুন্যার্থীদের পদচারণায় উৎসব অঙ্গনটি মুখরিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

