মোঃ সালাউদ্দীন মুন্না, চট্টগ্রাম (হাটহাজারী) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে তানযীমুল মিল্লাত আদর্শ মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলের প্রথম অধিবেশনের প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।
১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং শুক্রবার বাদ জুমা হতে হাটহাজারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি ও সেবামূলক সংগঠন তানযীমুল মিল্লাত ট্রাস্ট পরিচালিত তানযীমুল মিল্লাত আদর্শ মাদরাসা হিফজখানা ও এতিমখানার বার্ষিক মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় তিনি বলেন, মাদ্রাসায় যে পড়ে তারে আমরা মোল্লা ডাকি। অনেক ক্ষেত্রে আমরা দেখি মাদ্রাসা পড়ে তো মোল্লা, এরকম আমরা বলে থাকি। অথচ এই মাদ্রাসাগুলোর যে কত গুরুত্ব! আজকে আপনারা দেখতে পাবেন, বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নির্বাচিত ভিপি সাদেক কায়েম ভাই, দেখা যাচ্ছে সাদেক কায়েম কিন্তু তার ফাউন্ডার হচ্ছে মাদ্রাসা। সে মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেছে এবং মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করেছে। এরপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সে পড়াশোনা করেছে। একইভাবে জিএস ফরহাদ, সেও মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেছে। মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করেছে এবং তারা একটি বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তারা আজকে নির্বাচিত জিএস হয়েছে। তাহলে আজকে মাদ্রাসা শিক্ষার যে গুরুত্ব রয়েছে কিন্তু আমরা সেটা সমাজে, কিন্তু আমরা বেশিরভাগ মনে করি যে স্কুলে পড়লে সে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। মাদ্রাসায় পড়লে সে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। এ ধরনের আমাদের গ্রামেগঞ্জে অনেকেরই মাথায় কিন্তু চিন্তা থাকে।
এসময় তিনি মাদরাসা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, সম্মানিত ভাইয়েরা, মাদ্রাসায় পড়লে দুইটি লাভ। একটি হচ্ছে যে, আপনি আমি যখন মরে যাব, আমার সন্তান আমাকে যথাযথ সম্মান দিয়ে কবরে নিয়ে যাবে। কবরে নিয়ে যাওয়ার পরে কবরের পাড়ে গিয়ে, কবরের ধারে গিয়ে তার জন্য কি করবে? সূরাগুলো পড়ে তার জন্য বা তার বাবার জন্য সে কি করবে, দোয়া করবে। আর যদি স্কুলে পড়ে তাকে যদি আমি কোরআন শিখাতে না পারি, আমি যদি তাকে হাদিস শিখাতে না পারি, তাহলে আমাদের বাংলাদেশের বড় একজন বুদ্ধিজীবীর জানাজায় আমরা দেখেছিলাম, তার ছেলে মেয়ের পোশাক পরে কি করেছে, জানাজায় গিয়েছিল। ছেলে কি, মেয়ের পোশাক পরে জানাজায় গিয়েছিল। নাউজুবিল্লাহ মিন জালিক। একজন পুরুষ তার বাবার জানাজায় গিয়েছিল কি, মেয়ের পোশাক পরে। তাহলে সেই বড় বুদ্ধিজীবী হয়েছে কিন্তু তার ছেলেকে কোরআনের শিক্ষা দিতে পারে নাই। তার ছেলেকে হাদিসের শিক্ষা দিতে পারে নাই, সেজন্য তার এই পরিণতি। আমরা এরকম অসংখ্য জায়গায় আমরা এগুলো দেখতে পাই, সম্মানিত ভাইয়েরা। তো, সেজন্য এই যে মাদ্রাসা শিক্ষার যে গুরুত্ব রয়েছে, মাদ্রাসায় যে একজন ছেলে পড়লে সেই দুনিয়াও ভালো কিছু করতে পারবে। আবার তার জন্য আখেরাতেও কি রয়েছে? উত্তম আশ্রয়স্থল রয়েছে যেটি আমরা বলি, রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাহ, ওয়া ফিল আখেরতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আজাবান্নার। তাহলে সেই দুনিয়াতেও আল্লাহর লাভ করবে, আখেরাতেও আল্লাহর লাভ করবে। কিন্তু কেউ যদি স্কুলে পড়ে কোরআন, হাদিস এগুলো শিক্ষা অর্জন না করে, তাহলে সে দুনিয়ায় কামাই করতে পারবে। দুনিয়ায় অনেক বড় কিছু হতে পারবে। কিন্তু আখেরাতের জন্য তার খুব বেশি কিছু পাওয়া থাকবে বলে আমার মনে হয় না।
তানযীমুল মিল্লাত ট্রাস্ট সেক্রেটারী মোহাম্মদ মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী সঞ্চালনায় মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ফতেপুর ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান কবির চৌধুরী। এ সময় মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটিয়া মাদরাসার আরবী প্রভাষক আব্দুল আল মামুন, শাহজালাল শাহ মসজিদ খতিব ক্বারী মিজানুর রহমান, নুর কাজী হালিমিয়া মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার শহীদুল্লাহ, আস সাহাবা জামে মসজিদ খতিব মাওলানা নাজিম উদ্দীন। দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী বড় মাদরাসা সিনিয়র ক্বারী মাওলানা মোহাম্মদ তামিম।
মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে কোরআন ও সুন্নাহ থেকে আলোচনা পেশ করেন আলেমদের সংগঠন মজলিসুল ওলামা বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মামুনুর রশীদ নুরী, দারুল উলূম মুঈদুল ইসলাম হাটহাজারী বড় মাদরাসার শিক্ষক ড. মাওলানা নুরুল আবছার আল-আযহারী, কুয়েতের ইসলামিক প্রেজেন্টেশন কমিটির দায়ী মাওলানা হাফেজ মোহাম্মদ আইয়ুব।
হাটহাজারী উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোস্তফা কামাল, ইউএই বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা শাহ আলম।

