প্রতিনিধি মোঃ তপছিল হাছান:
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নাগদা এলাকায় জৈনপুর পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস দুর্ঘটনায় আহত আরও এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ইয়াসমিন (২৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বিষয়টি তার স্বামী ইমরান হোসেন নিশ্চিত করেছেন।
নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে ইয়াসমিনের মৃত্যু হয়। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ইয়াসমিন হাইমচর উপজেলার চান্দ্রাবাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্বামী ও সন্তানসহ নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ শিশুপুত্রের কবিরাজি চিকিৎসার জন্য তিনি তিন বছর বয়সী ছেলে বায়েজীদকে নিয়ে হাইমচরে এসেছিলেন। চিকিৎসা শেষে নারায়ণগঞ্জে ফেরার পথে মতলব–গৌরীপুর পেন্নাই সড়কের নাগদা এলাকায় জৈনপুর পরিবহনের বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
দুর্ঘটনায় ইয়াসমিনের তিন বছর বয়সী পুত্র বায়েজীদও গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে বাবুরহাট থেকে ছেড়ে যাওয়া ঢাকাগামী জৈনপুর পরিবহনের একটি বাস নাগদা এলাকায় একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১৭ জন যাত্রী আহত হন। এর আগেও একই দুর্ঘটনায় আহত নওগাঁও গ্রামের রুবি (৪৯) ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
একই দুর্ঘটনায় পরপর একজন যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মতলব–গৌরীপুর পেন্নাই সড়কে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। তারা দ্রুত বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান চিহ্নিতকরণ এবং কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

