প্রতিবেদন:
রেজাউল করিম
উখিয়া উপজেলা প্রতিনিধি
উখিয়ার থাইংখালী এলাকায় জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে—জামায়াতে যোগদানকারীরা বিএনপির কেউ নয়, অন্যদিকে যোগদানকারীদের একজন নিজেদের বিএনপির সাবেক নেতা-কর্মী বলে দাবি করে ভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেছেন।
বিএনপির উখিয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “থাইংখালী এলাকায় যারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছে, তারা বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী নয়। বিষয়টি নিয়ে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।” তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি একটি সুসংগঠিত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ দল। দলীয় আদর্শ ও সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ অন্য রাজনৈতিক দলে যোগ দিলে তার দায় বিএনপি নেবে না।
তবে বিএনপির এই বক্তব্যের বিপরীতে জামায়াতে যোগদানকারীদের একজন নিজেকে পালংখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বলেন, তারা বিএনপির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। তিনি দাবি করেন, “আমরা আলাদা আলাদা ভাবে প্রায় ৪৫০ জন বিএনপির সদস্য, নেতা ও নেতৃত্ববঞ্চিত কর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছি।”
যোগদানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, পালংখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বিগত সময়ে তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন এবং মামলা ও হামলা থেকে রক্ষা করেছেন। কিন্তু গত এক বছরে চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষ থেকে মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এতে তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে জামায়াতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরও বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। নেতৃত্বে অবহেলার শিকার হয়েছি। এসব কারণেই আমরা আজ দলে দলে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছি।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উখিয়ার রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলমান রয়েছে এবং সামনে এর রাজনৈতিক প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে বলে তারা মনে করছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে তা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

