• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমদ 

     swadhinshomoy 
    07th Feb 2026 4:46 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নবীন প্রজন্মের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চাই, আগামীর উন্নয়নশীল বাংলাদেশে সুস্থ ধারার পরিচ্ছন্ন গণতান্ত্রিক চর্চার পথ বিকশিত হোক। এছাড়াও আমরা চাই – অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বন্ধ করা, জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করা, নির্বাচন কমিশনকে বিশ্বাসযোগ্য, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী করা, তথ্য অধিকার আইনের সংস্কার ইত্যাদি। স্বাধীন রাষ্ট্ররূপে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে আসলেই রাজনৈতিক মহলে দেখা দেয় তীব্র উত্তেজনা ও পক্ষ-প্রতিপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। ভোগবাদ ও সুবিধাবাদ দলের মূল চালিকাশক্তি যেনো হতে না পারে। হীন স্বার্থান্বেষীরা যখন পক্ষ-প্রতিপক্ষ হয়ে বিরোধে মত্ত থাকে, তখন তাদের মধ্যে বিবেক ও যুক্তি কাজ করে না। কাজ করে শুধু স্বার্থান্ধ আবেগ।
    দেশে রাজনৈতিক সংকটের মূলে আছে নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে আস্থাহীনতা। এ অবস্থায় মনে রাখতে হবে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও জাতীয় নির্বাচন প্রত্যাশা করে সাধারণ মানুষ। কেননা নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য না হলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে জনগণের রায় প্রকাশের পথ রুদ্ধ হয়। ইন্টারনেট-বিপ্লবের পর বিশ্ব এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে, তেমনি খুলে দেবে সম্ভাবনার দ্বার। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী সুদক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। অফুরন্ত জীবনীশক্তিতে বলীয়ান তরুণ প্রজন্মই পারে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে একটি প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে। তারুণ্যের শক্তিই পারবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে। আমাদের চোখে এখন উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন। উদারবাদী গণতন্ত্র ও অপরিকল্পিত অর্থনীতির জায়গায় দরকার সর্বজনীন গণতন্ত্র ও পরিকল্পিত অর্থনীতি। রাজনৈতিক চিন্তায় জনসম্পৃক্তি দরকার। সরকারকে ধরাশায়ী করা এবং ক্ষমতায় গিয়ে শুধু অর্থবিত্ত অর্জন করা ও ক্ষমতা ভোগ করার এটাই তো রাজনীতির লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। জনগণের ভেতর থেকে উন্নত মূল্যবোধ ও নৈতিক চেতনা দরকার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সরকারকেই প্রয়োজনীয় করণীয় ঠিক করতে হবে। জনগণকে সব ধরনের অনিশ্চিয়তার হাত থেকে শঙ্কামুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি দেশের অগ্রগতিতে সরকারকেই অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে যা এ মুহূর্তে অধিক জরুরি। দেশের সাধারণ জনগণ যদি নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারে তবে দেশের সকল উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ও আগামীর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ কঠিন হয়ে পরবে। আর একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সুসম্পন্ন করতে হলে এগুলোই হচ্ছে প্রধান পূর্বশর্ত।
    আসন্ন নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ- এমন বিশ্বাস নিয়ে বসে আছে দেশের জনগণ। তাঁরা নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও জনবান্ধব হোক সেটা চায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভয়ে ও সংশয়ে আছে ভোটাররা। এদেশে সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচনের শঙ্কা থেকেই যায় বারবার। তাই এ নির্বাচনটি সুষ্ঠু ও অবাধ করে বিগত নির্বাচনের কষ্ট জনগণকে ভুলিয়ে দিক ইসি, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
    আমরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক নির্বাচন আমাদের জাতীয় স্বার্থ, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশী কথিত প্রভুদের হস্তক্ষেপ মোটেও কাম্য নয়। ১২ ফেব্রুয়ারী’র নির্বাচন ঘিরে প্রার্থী সমর্থকরা নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা চাই না, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘাত হোক। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই রক্তপাত, সংঘাতের মুখোমুখী হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনীত প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আন্তরিক হতে হবে। প্রত্যেককে স্মরণ রাখতে হবে সংঘাতের ভয়ে যদি ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট প্রদান করতে না পারেন তাহলে নির্বাচন অর্থবহ হবে না। এতে প্রশ্নবিধ হয়ে পড়বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অবশ্য সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট গ্রহণ, স্বচ্ছভাবে ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ করতে নির্বাচন কমিশনার সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্বাচন যেন উৎসব মুখর হয় তার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন। সোজাসাপ্টা কথা হচ্ছে দেশের মানুষ বিগত উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় সন্তুষ্ট। নির্বাচনের পরেও যেন আগামীতে যে সরকার গঠিত হবে তারা যেন এই উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলোকে আরো বেগবান করে। বিগত সময়কালে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এখন তা বিশ্ববাসীর কাছে দৃশ্যমান। বিপুল পরিমাণে শিল্পাঞ্চল ও শিল্পকারখানা তৈরি হয়েছে। এখন সেগুলোতে দেশের বেকার যুবসমাজকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দিয়ে দারিদ্রতা ও বেকারত্ব দূরিকরণে উদ্যোগ নিতে হবে। দুনীর্তিবাজ, মুনাফাখোর ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনীতিতে মানবিক ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতার প্রয়োজন। গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারলে এদেশে আসবে কাক্সিক্ষত শান্তি ও স্থিতিশীলতা। জনগণ পাবে পূর্ণ স্বাধীনতা ও মুক্ত গণতন্ত্রের স্বাদ। পরিশেষে আমরা চাই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়তে।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    February 2026
    S M T W T F S
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728