উখিয়া উপজেলা প্রতিনিধি : রেজাউল করিম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সামনে রেখে কক্সবাজার–৪ (উখিয়া–টেকনাফ) সংসদীয় আসনে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম) মনোনীত “সিংহ” প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে উখিয়া উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এনডিএম উখিয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক কামাল উদ্দিন জয়ের নেতৃত্বে শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উখিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ গণসংযোগ পরিচালিত হয়।
গণসংযোগকালে পথসভা ও গণমানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ে কামাল উদ্দিন জয় বলেন, “উখিয়া–টেকনাফ একটি সীমান্তবর্তী ও স্পর্শকাতর এলাকা। এখানে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদ নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম সীমান্তকে সুরক্ষিত করা হবে। সীমান্ত সুরক্ষিত হলেই ইয়াবা ও মাদক প্রবেশ বন্ধ হবে, এলাকার মানুষ মাদক–ইয়াবার বদনাম থেকে চিরতরে মুক্তি পাবে।”
তিনি বলেন, “ইয়াবা আকাশ পথে আসে না—এটা সীমান্ত দিয়েই প্রবেশ করে। তাই সীমান্তে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সীমান্ত সুরক্ষিত হলে পথে পথে হয়রানিমূলক চেকপোস্টের প্রয়োজনও কমে আসবে।” একই সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অঙ্গীকার করেন তিনি।
গণসংযোগে বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা সংকট উখিয়া–টেকনাফ অঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা। এনডিএম মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদ নির্বাচিত হলে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান ও প্রত্যাবাসনে কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবেন। রোহিঙ্গাদের কারণে সৃষ্ট স্থানীয় সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। যারা অবৈধভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মসনদ সংগ্রহ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
কামাল উদ্দিন জয় আরও বলেন, “হোস্ট কমিউনিটির ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। হোস্ট কমিউনিটির জন্য যে বরাদ্দ আসে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এলাকার অধিকাংশ মানুষ উপকৃত হবে।” তিনি স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, সরকারি অনুদান বা নাগরিক সেবা নিজের নামে প্রচার না করে স্বচ্ছতার সঙ্গে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
এ সময় তিনি এডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরেন। ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
স্থানীয় বেকার যুবসমাজকে যোগ্যতা অনুযায়ী এনজিও ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ সৃষ্টি, কর্মমুখী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরি, শিক্ষার মান উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা ও এমপির মনিটরিং সেল গঠন, ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত স্থানীয়দের নিরাপত্তা জোরদার, মামলা গ্রহণে হয়রানি ও ঘুষ বন্ধ করা, কৃষি–মৎস্যসহ কৃষিজ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পানের বরজ ও সুপারী চাষে বিশেষ উদ্যোগ।
এছাড়া টেকনাফ বন্দরকে সিন্ডিকেটমুক্ত করে আরও সচল করা, রাজস্ব আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উখিয়া ও টেকনাফের সরকারি হাসপাতালগুলোর সেবার মান উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সংযোজন, পরিকল্পিতভাবে ময়লা–আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও সার উৎপাদনের উদ্যোগ, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটমুক্ত নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
পর্যটন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে কামাল উদ্দিন জয় বলেন, “উখিয়া–টেকনাফ পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনাময় এলাকা। সরকারি ও বেসরকারিভাবে পর্যটন স্পট বৃদ্ধি করলে রাজস্ব বাড়বে, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হবে।” পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ উদ্যোগ গ্রহণ এবং জনস্বার্থে উপদেষ্টা পরিষদ ও স্থানীয় নাগরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
গণসংযোগ শেষে কামাল উদ্দিন জয় এলাকার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“উন্নয়ন, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মাদকমুক্ত উখিয়া–টেকনাফ গড়তে সিংহ মার্কায় ভোট দিন। এডভোকেট সাইফুদ্দিন খালেদকে সুযোগ দিন—উখিয়া–টেকনাফ বদলে যাবে, ইনশাআল্লাহ।”

