মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি:
বরকল উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকায় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, শান্তিময় চাকমা ও নীরদবরণ চাকমা নামের দুই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে ফোনে ডেকে বা নানা অভিযোগে জড়িয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ দাবি করেছেন। স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগেও তারা প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং এখনো সেই প্রভাব ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ১০০টি পরিবার বসবাস করে। এর মধ্যে প্রায় ৮০টি পাহাড়ি পরিবার এবং ২০টি বাঙালি পরিবার রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, বহু বছর ধরে পাহাড়ি ও বাঙালি পরিবারগুলো ক্রয়কৃত জমিতে বসবাস করে আসছেন। তবে হঠাৎ করে কিছু বাঙালি পরিবারের বসতঘরকে ‘অবৈধ’ দাবি করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা এবং অর্থ দাবি করার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীরা জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের লেখালেখি ও অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। ফলে অনেকেই নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
তবে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য মেলেনি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অভিযোগগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনের শাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
সচেতন নাগরিকরা রাঙামাটি জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার প্রতি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—
অভিযোগসমূহ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হোক,
ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক,
এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
বরকল উপজেলার সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি বাসিন্দাদের অভিমত, প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই পারে এলাকায় স্বস্তি ফিরিয়ে এনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে।

