এস আলম, সরিষাবাড়ী (জামালপুর)
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ৮ নং মহাদান ইউনিয়নের সানাকইর শেখ খলিলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণ সামগ্রী চুরির ঘটনায় পুলিশ দুই ব্যক্তিকে আটক করার পর বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে। সরেজমিনে তদন্ত করতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসী ভবনের স্থায়িত্ব নিয়ে চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন।
বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণাধীন থাকা অবস্থায় নির্মাণ সামগ্রী চুরির অভিযোগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে। তবে চুরির এই ঘটনার পেছনে ভেতরের কোনো যোগসাজশ আছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের ছাদের সাউনির কাজে যেখানে মজবুত লোহার পাতি ব্যবহার করার কথা, সেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে সাধারণ রড ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া নির্মাণে অত্যন্ত নিম্নমানের (দুই নম্বর) ইট ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
নির্মাণ কাজের আরও কিছু গুরুতর অনিয়ম হলো,
হাতে মেশানো কংক্রিট: বড় এই ভবনের পিলারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঢালাই কাজে কোনো ভাইব্রেটর বা মিক্সচার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে না। শ্রমিকরা হাতে মিক্সড করা কংক্রিট দিয়ে ঢালাই কাজ সম্পন্ন করছেন।
পিলারের ভেতর বায়ুশূন্য ও ঘন ঢালাই নিশ্চিত করতে যেখানে ভাইব্রেটর মেশিন অপরিহার্য, সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে সাধারণ বাঁশের কাঠি।
পিলার ঢালাই করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সেটিংস (শাটারিং) খুলে ফেলা হচ্ছে। প্রকৌশলীদের মতে, এতে পিলারের স্থায়িত্ব ও ভারবহন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়।
একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণে এমন প্রকাশ্য দুর্নীতি দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের প্রশ্ন— “যে প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে, সেখানেই যদি এমন ভয়াবহ দুর্নীতি হয়, তবে দেশের উন্নয়নের ভবিষ্যৎ কী?”
উক্ত প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল। এভাবে ভবন নির্মাণ চলতে থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা অবিলম্বে এই অনিয়ম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। ভবনের কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকল্প কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে

