কে.এম.জাকির,রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
রমজান মাস সংযমের মাস হলেও রৌমারীর বাজারে যেন শুরু হয়েছে পকেট কাটার মহোৎসব। সিন্ডিকেটের অদৃশ্য ইশারায় নিত্যপণ্যের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বিশেষ করে ইফতার ও সেহরির অপরিহার্য উপাদান কলা, দুধ আর লেবুর দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ ক্রেতারা এখন দিশেহারা। বাজারে গেলে এখন সাধারণ মানুষের মুখে একটাই সুর— “কলা এখন বড়লোকের খাবার!”
কলা সিন্ডিকেটের কারসাজি
কয়েকদিন আগেও রৌমারীর বাজারে যে কলা ২০ থেকে ৩০ টাকা হালি দরে বিক্রি হতো, রমজান আসতেই তার দাম রাতারাতি লাফিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। অর্থাৎ দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। কলার এই আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ক্রেতা মনির হোসাইন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “কলার যে হারে দাম বাড়ছে, এখন কলা দিয়ে দুধ-ভাত খাওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে দিয়েছি। ভাবছি গুড় দিয়েই ভাত খেতে হবে।” তার এই সরস কিন্তু বেদনাদায়ক মন্তব্যটিই বলে দেয় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের বর্তমান করুণ দশা।
দুধ ও লেবুর বাজারে অস্থিরতা
কেবল কলা নয়, অস্থিরতা বিরাজ করছে দুধ ও লেবুর বাজারেও। রোজার আগে যেখানে এক লিটার গরুর দুধ ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা কিনতে হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। ইফতারে এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত পানের ইচ্ছাটাও এখন বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০ টাকা হালির লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে লেবুর দাম চার থেকে পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পাওয়া কোনো স্বাভাবিক বাজার পরিস্থিতি হতে পারে না।
তদারকিহীন বাজার, অসহায় ক্রেতা
রৌমারীর সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। রমজানকে পুঁজি করে অধিক মুনাফা লাভের এই নোংরা প্রতিযোগিতা সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও তার প্রভাব বাজারে দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। ফলে সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে রৌমারীর খেটে খাওয়া মানুষ।
পবিত্র রমজানে যেখানে ব্যবসায়ীদের সহনশীল হওয়ার কথা, সেখানে রৌমারীর চিত্র পুরো উল্টো। প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের জোরালো দাবি— কেবল লোক দেখানো তদারকি নয়, বরং কড়া নজরদারি ও নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে এই অসাধু সিন্ডিকেটকে ভেঙে দিতে হবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষের সেহরি আর ইফতারের থালা থেকে পুষ্টিকর খাবারগুলো একে একে হারিয়ে যাবে।

