মতলব দক্ষিণ ও ছেংগারচর যুবদলের তিন শীর্ষ নেতাকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
নিজস্ব প্রতিবেদক;বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল-এর কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি মতলব দক্ষিণ উপজেলা ও ছেংগারচর পৌর যুবদলের তিন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব বিস্তার ও দলীয় নীতিমালাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে।
৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে প্রেরিত এক আনুষ্ঠানিক পত্রে জানানো হয়, মতলব দক্ষিণ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলাম কিরণ, ছেংগারচর পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জ্বল ফরাজী এবং যুবদল নেতা আবু সাঈদ ব্যাপারীর বিরুদ্ধে সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে প্রভাব বিস্তারমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং নিয়ম-বহির্ভূত কার্যক্রম পরিচালনার সুস্পষ্ট অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সংগঠনের আদর্শিক শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তির পরিপন্থী। ফলে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না—তার যুক্তিসংগত ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা আগামী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির নিকট সরাসরি উপস্থিত হয়ে প্রদান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশক্রমে দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এ নোটিশ সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযোগের বিস্তার: দখল, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের দাবি
দলীয় ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে প্রভাব খাটিয়ে জায়গা দখল, প্রশাসনিক টেবিলে চাঁদাবাজি এবং টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে।
মুজাহিদুল ইসলাম কিরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—তিনি বিভিন্ন স্থানে জায়গা দখল, থানার দালালি নারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রমাণ উপস্থাপন করে হয়রানি এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছেন।
ছেংগারচর পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জ্বল ফরাজী বিরুদ্ধে ছেংগারচর গরুর বাজার নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে যুবদল নেতা আবু সাঈদ ব্যাপারীর বিরুদ্ধে ছেংগারচর কলেজ রোডে সিএনজি স্ট্যান্ড ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড দখল করে রাখা এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অন্য কাউকে জমা দিতে না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাঁদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব প্রদান করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

