জিয়াউল হক জিয়া,কক্সবাজার প্রতিনিধি, কক্সবাজার :
কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ইউনিয়নে চলছে পাহাড় কাটার এক মহোৎসব। দিনের আলো ফুরিয়ে রাত নামলেই শুরু হয় মাফিয়াদের রাজত্ব। স্কেভেটর (খননযন্ত্র) আর ডাম্পারের বিকট শব্দে স্থানীয়দের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেলেও, রহস্যজনক কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তর।
যেখানে চলছে ধ্বংসযজ্ঞ
ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের প্রায় প্রতিটি গ্রামেই কমবেশি পাহাড় রয়েছে। সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের প্রায় সবকটি পাড়ায় চলছে এই পাহাড় খেকোদের থাবা। বিশেষ করে:
সাবেক পাড়া, পশ্চিম পাড়া ও দক্ষিণ পাড়া
বানিয়া পাড়া, বৈদ্য মুরা ও পূর্ব করিম সিকদার পাড়া
হাজির পাড়া, ঘোড়ার পাড়া ও নানা মিয়া পাড়া
চৌধুরী পাড়া, নতুন পাড়া ও উল্টাখালী
এসব এলাকায় কোথাও স্কেভেটর দিয়ে পাহাড় সাবাড় করে ডাম্পার ভর্তি করে মাটি পাচার হচ্ছে, আবার কোথাও শ্রমিক লাগিয়ে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাটা হচ্ছে পাহাড়।
অঘোষিত ‘পাহাড় খেকো’দের দৌরাত্ম্য
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারুয়াখালীতে একদল প্রভাবশালী ব্যক্তি অবৈধ ডাম্পার ও স্কেভেটরের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এই সিন্ডিকেটের মালিকরাই এখন এলাকার ‘অঘোষিত পাহাড় খেকো’ হিসেবে পরিচিত। তাদের মূল ব্যবসাই হলো পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করা। প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
“রাতের বেলা ডাম্পারের শব্দে মনে হয় যুদ্ধ চলছে। প্রশাসনের কেউ দেখেও দেখে না। এভাবে পাহাড় কাটলে আগামী বর্ষায় বড় ধরণের ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হবে।”
— নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা।
পরিবেশ ও নিরাপত্তার হুমকি
পাহাড় কাটার ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ধুলোবালিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট। ভারি ডাম্পার চলাচলের কারণে নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এলজিইডির সড়কগুলো। অথচ পরিবেশবাদী সংগঠন বা সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
প্রশাসনের প্রতি কঠোর বার্তা
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধ না হলে ভারুয়াখালী তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা হারাবে।
অবিলম্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা।
অবৈধ ডাম্পার ও স্কেভেটর জব্দ করা।
পাহাড় কাটার নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা।
পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এই মুহূর্তে কঠোর হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

