মুবিনুল ইসলাম, পেকুয়া প্রতিনিধি :
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নের অন্তত ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। সংস্কার ও উন্নয়নের অভাবে সড়কগুলো এখন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বর্ষা মৌসুম এলেই এসব সড়ক কাদামাটিতে পরিণত হয়ে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে যায়।
স্থানীয়রা জানান, দ্রুত সংস্কার না করা হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। ইতোমধ্যে এসব সড়ক উন্নয়নের দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
উন্নয়নের দাবিতে উল্লেখযোগ্য সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে— কেরুন ছড়ি সড়ক (২ কিলোমিটার এইচবিবি), গুদিকাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চেপ্টা মুরা জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়ক (২ কিলোমিটার এইচবিবি), ঢালার মুখ জামে মসজিদ থেকে লেইনের শিরা পর্যন্ত সড়ক (৪ কিলোমিটার এইচবিবি) এবং কেরুন ছড়ি কবরস্থান থেকে মোজাফফরের বাড়ি হয়ে কেরুন ছড়ি জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়ক (২ কিলোমিটার এইচবিবি)।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কাইছার মুহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, “মৌলভী বাজার-ভেলুয়ার পাড়া সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে এর উন্নয়ন হয়নি। ফলে প্রতিদিনই সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে ইউপি সদস্য রুজিনা বেগম বলেন, “কাদীর পাড়া সড়কটি এলাকার মানুষের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম। আগে কিছু অংশে ইট ছিল, এখন পুরো সড়কই প্রায় কাঁচা হয়ে গেছে। যুগের পর যুগ অবহেলায় পড়ে থাকা এ সড়কটি বর্ষা মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। টইটং ইউনিয়নের সামগ্রিক গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাই এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম।”
আবেদনকারী জেডএম মোসলেম উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে টইটং ইউনিয়নের বহু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারের অভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব সড়ক চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, ফলে শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
তিনি বলেন, “বিগত সময়ে চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম কয়েকটি ওয়ার্ডে সীমিত আকারে কিছু সড়ক সংস্কার করেছেন। তবে অধিকাংশ ওয়ার্ডে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাই আমাদের নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের কাছে লিখিতভাবে সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, এসব সড়ক উন্নয়ন করা হলে টইটং ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে। কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ সহজ হবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। কোথাও ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত, আবার কোথাও ইট উঠে গিয়ে সড়ক কাঁচা হয়ে গেছে। কিছু অংশে ইট বিছানো থাকলেও বেশিরভাগ অংশই এখন কাঁচা। কয়েকটি সড়কে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এবং কিছু সড়কে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
চৌকিদার পাড়ার বাসিন্দা শফিউল আলম বলেন, “চৌকিদার পাড়া সড়ক দিয়ে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার মানুষের চলাচল। অথচ সড়কটি এখন ভগ্নদশায় পড়ে আছে। দ্রুত এটি সংস্কারের আওতায় আনা প্রয়োজন।”
কইডা পাড়ার বাসিন্দা শহর আলী বলেন, “এস এম আবুল কাসেম সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কজুড়ে গর্ত আর গর্ত। পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন। তাই সড়কটি দ্রুত এইচবিবি দ্বারা উন্নয়ন করার জোর দাবি জানাচ্ছি।”
এলাকাবাসীর আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে দীর্ঘদিনের অবহেলিত এসব সড়ক সংস্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

