মোঃ রেজাউল হক রহমত
(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:
কসবায় অনলাইন নিউজ পোর্টাল “তালাশ ক্রাইম দৃষ্টি”-এর সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—এটি কি পরিকল্পিত হত্যা, নাকি সংবাদ প্রকাশের জেরেই টার্গেট করা হয়েছে তাকে?
স্থানীয় সূত্র ও সহকর্মীদের দাবি, দ্বীন ইসলাম সম্প্রতি একাধিক স্পর্শকাতর ও প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন। এসব প্রতিবেদনের পর থেকেই তিনি বিভিন্নভাবে হুমকি ও চাপের মুখে ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সদরে বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) সকালে জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “দ্বীন ইসলাম শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি ছিলেন সত্য অনুসন্ধানের কণ্ঠস্বর। তাকে হত্যার মাধ্যমে অপরাধীরা স্বাধীন সাংবাদিকতাকে ভয় দেখাতে চেয়েছে।” তারা আরও বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা রয়েছে, তা দ্রুত উদঘাটন না হলে এটি দেশের গণমাধ্যমের জন্য একটি ভয়াবহ বার্তা হয়ে দাঁড়াবে।”
বক্তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। তারা অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানান।
এ সময় বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক আনোয়ার বিন খলিলুর, জাবেদ আহমেদ জীবন, আব্দুল্লা আল মতিন, শাহিন রেজা টিটু, সোহেল খান, রোহান আহমেদ, আশরাফুল হক, ফজলে রাব্বি পাপ্পু, হাজী মো. কাউছার আহমেদ, আব্দুল্লা আল মামুন, শেখ মিহাদ, খলিল পরদেশী, লিটন মিয়া (মেম্বার), সালমান জমদ্দার, সফিকুল ইসলাম শরীফ, মাজেদুল ইসলাম মন্টি, সঞ্জয় শীলসহ অন্যান্যরা।
মানববন্ধন থেকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বর্তমানে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং সাংবাদিক সমাজের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে ভবিষ্যতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।

