মোঃ নাজিম উদ্দিন, মেঘনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ-
কুমিল্লা মেঘনা উপজেলায় শিক্ষার্থী সাব্বির হত্যার আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে গত ২৭ মার্চ মানববন্ধনে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম শেষ হওয়া পর আসামি গ্রেফতার না করায় ফের মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও রাস্তা অবরোধ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
(৭ এপ্রিল) মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় রাধানগর ইউনিয়নের হোমনা-মেঘনা উপজেলা হাইওয়ের রাস্তার দু-পাশে মুগারচর লক্ষণখোলা বাজার রাস্তায় ব্রেকেট দিয়ে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রকাশ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী।
এই বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে নিহত সাব্বিরের পরিবারসহ স্থানীয় এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করেন।
সাব্বিরের মা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সাব্বিরের হত্যার আসামির গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড-ফাঁসি দাবি জানান এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার চান।
অন্যদিকে এই উপজেলা রাধানগর ইউনিয়নের মুগারচর গ্রামের গত (২৬ মার্চ) বৃহস্পতিবার আলী শাহ ভান্ডারীর ওরশে বাউলগানের অনুষ্ঠানে লক্ষণখোলার গ্রামের কিশোর গ্যাং নাঈম এবং সঙ্গে থাকা কিশোর গ্যাং সদস্যরা এক নারীকে উত্ত্যক্ত করলে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাঈম প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে চলে আসেন।
এর জের ধরে (২৭ মার্চ) শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জিহাদ (২২) ও শাহজালাল ওরফে সাব্বিরসহ (২০) কয়েকজন সিএনজি অটোযোগে মানিকারচরের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে লক্ষণখোলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে ওত পেতে থাকা নাঈমের দলবল নিয়ে সিএনজি অটোরিকশার গতি রোধ করে। সাব্বিরকে সিএনজি থেকে নামিয়ে নাঈম ও সাব্বির কে বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। সাব্বিরের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে ছুরিকাঘাত করে তিনি মারাত্মক জখম হন। অন্য আসামিরা লোহার রড ও পাইপ দিয়ে পিটিয়ে দুজনকে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মেঘনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাব্বির মারা যান।
নিহত সাব্বিরের বাবা দীর্ঘ অনেক ধরে প্রবাসে আছেন, দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সাব্বিরের ছিলেন মেজ।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন যায়গায় পুলিশসহ র্যব, ডিবি পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

