গৌতম কুমার মহন্ত,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর মান্দায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে আবারো ৫ বিঘা জমির আমন ধান খেতে ঘাসমারা বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে বিনষ্টের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।ঘটনটি ঘটেছে উপজেলার ভালাইন গ্রামে।স্থানীয়রা জানানা,ভালাইন দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা মৃত নাছের আলী মন্ডলের পুত্র শফিউদ্দীন মন্ডলসহ তার দুই ভাইয়ের সঙ্গে পার্শবর্তী পাঘা গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের পুত্র শাহীন আলমের দীর্ঘদিন ধরে ভালাইন মাঠের প্রায় ৫ বিঘা জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে।জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র শাহীন আলম গং এর বিরুদ্ধে নওগাঁ আদালতে একাধিক মামলাও রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।শফিউদ্দিন মন্ডল অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে গত মঙ্গলবার রাতে শাহীন আলম গং ওই মাঠের রোপণকৃত ৫ বিঘা জমির আমন ধান খেতে ঘাসমারা বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে বিনষ্ট করেছে।আর সপ্তাহ দুয়েক পর আমন ধান গুলো কাটা শুরু হতো।এর আগেও শাহীন গং দুই বার ওইসব জমিতে রোপনকৃত ধানে ঘাসমারা বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে ধান বিনষ্ট করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।এঘটনায় ২৯ অক্টোবর বুধবার মান্দা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে ওই গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানায়,দক্ষিনপাড়া ভালাইন গ্রামের মৃত নাছের উদ্দীন মন্ডলের পুত্র শফিউদ্দিনসহ তার তিন ভাই মহাদেবপুর উপজেলা সদরসহ জেলা শহরে বসবাস করেন এবং তাদের সন্তানরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে চাকরিরত আছেন।ওই পরিবারের সদস্যরা তাদের গ্রামের বাড়িতে নিয়মিত থাকতে না পারায়,শফিউদ্দিন ও তার অপর দুই ভাইয়ের সকল সম্পত্তি দেখভালের দ্বায়িত্ব পালন করেন তাদের ভাগ্নে গোলাম রাব্বানী।জানা গেছে,গত প্রায় ৫ বছর আগে পাঘা গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের পুত্র শাহীন আলমের বিরুদ্ধে গোলাম রাব্বানী বাদী হয়ে জমিজমা সংক্রান্ত ও চাঁদাদাবীর অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন।শফিউদ্দিনসহ তার ভাইদের অভিযোগ,জমি নিয়ে বিরোধ এবং আদালতে মামলা দেয়াকে কেন্দ্র করে তাদেরকে নানা ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করাসহ রাতের অন্ধকারে বারবার তাদের ধান বিনষ্ট করে আসছে শাহীন আলম গং। এর আগে এ বিষয়ে শালিশ বৈঠকে শাহীন গং এমন অপরাধ মুলক কাজ করবেনা বলে অঙ্গীকার করলেও পরের বছর আবারও তাদের ওইসব জমিতে রোপণকৃত ধানে বিষ প্রয়োগ করে সম্পূর্ণ ধান নষ্ট করে দেয় বলে তিনি দাবী করেন।এসব বিষয়ে বাদী হয়ে নওগাঁ আদালতে মামলা দায়ের করেন।এ মামলায় শাহীন আলম দীর্ঘদিন পলাতক থেকে চলতি বছরের ৭ অক্টোবর আদালত থেকে জামিন পায়।শফিউদ্দিন গং এর অভিযোগ শাহীন আলম আদালত থেকে জামিনে এসে আবারো তাদের জমির আমন ধান খেতে ঘাসমারা বিষ প্রয়োগ করে।এতে করে তাদের পরিবার একদিকে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অপর দিকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।শাহীন আলম গং এর এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,বার বার এধরণের নাশকতামূলক কাজ করে একটি পরিবারের ক্ষতি করা কোন মানুষের কাজ হতে পারে না।ধান বিনষ্ট করা শুধু ব্যক্তির ক্ষতি নয়,দেশেরও খাদ্য সংগ্রহ অভিযান এবং উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।খাদ্য শষ্য বিনষ্ট কারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এ প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে বলে সচেতন মহল মনে করেন। অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আবু রায়হান বলেন অভিযোগের তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

