সোহেল ফরাজি ,আমতলী(বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে গত শনিবার রাত ১২টায়। জেলেরা ওই মুক্ত সময় পেয়ে নদীগুলোতে ইলিশ ধরা শুরু হয়েছে। জেলেরা বেশি দামে পাইকারদের কাছে ইলিশ মাছ বিক্রি করলে জেলেরা অর্থনৈতিক ভাবে সচ্ছল হচ্ছে কিন্তু খুচরা ক্রেতারা মাছের দামের কথা শুনে নিরাশ হচ্ছে ক্রয় ক্ষমতা থেকে।তারা বলেন ইলিশের দামে আগুন লেগেছে। এ অভিযানের শুরুতে প্রহর গুনতে গুনতে গত ৪ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় অবরোধ কেটে গেলো। আর রুপালী ইলিশ বড় হতে লাগলো । বাজারে ইলিশের দাম আগুনরুপ নিলো।এর ফলে কিন্তু শুধু থমকে গেছে গরিব ও মধ্য বিত্তবান মানুষদের ইলিশ মাছ কেনাকাটার সৌভাগ্য। “এজন্যই গ্রামের ভাষায় বলে জেলেরা হাসে অসহায় ক্রেতারা কাঁদে” এ কাঁদা পরিবারের কোন মৃত্যু বা দুর্ঘটনার কাঁদা নয় এটি হচ্ছে জেলে বা পাইকাররা মাছ ক্রেতাদের চড়াদামে ইলিশ বিক্রি করে তাদের ভাগ্যে জোটছেনা ইলিশ মাছ খাবার সৌভাগ্য। এর ফলে অর্থশূন্য বা অসহায়ের মানুষের হৃদয়ে ইলিশ না খেতে পারার এক আর্তনাদ জেগে থাকছে। তবে ইলিশের দাম চড়া থাকায় অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী হয় জেলেও পাইকাররা অপরদিকে মধ্যবিত্ত ও অসহায় মানুষেরা খুশিমত ইলিশ খাওয়ার চাহিদা পূরণ করতে না পারায় তাদের মনে আর্তনাদের গ্লানি পরছে।এমনটাই বলেছেন অসহায় ও মধ্যবিত্তবান ইলিশ মাছ ক্রেতারা।
এতে পুরোপুরি বোঝানো হয়েছে জেলেরা চরা দামে ইলিশ বিক্রি করছে কিন্তু অসহায় মানুষের মধ্যে শ্রমজীবী অভিবাসী মানুষেদের দু:খের গ্লানি নিয়ে গুনতে হচ্ছে অসহায় প্রহর।
গত রোববার(২৫ অক্টোবর)সকাল থেকে বাজারেও আসছে প্রচুর ইলিশ।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হতেই আমতলী উপজেলার কোল ঘেঁষা পায়রা নদী আর এ নদীতেই জেলেরা জাল ফেলে মাছ ধরে বিক্রি করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করে জিবিকা নির্বাহ করে থাকেন।আর এ জেলেদের প্রধান অর্থ উপার্জনের মূল মন্ত্র হচ্ছে মাছ আহরন করা।এ পেশা যেন জীবনের গল্পটাই নদী,পানি ও মাছের সাথে মিশে আছে। এমনটাই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন গুলিসাখালি জেলেপাড়ার বাসিন্দা মো: শাজাহান খা।জীবনে গাড়ি বাড়ি করার স্বপ্ন নেই তাদের কিন্তু স্বপ্ন একটাই দুমুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকা। এ স্বপ্ন নিয়ে সারাজীবন জীবন নদীর সাথে গল্পকথায় কাটিয়ে দেয় জেলেরা।
আমতলী মাছ বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, আজ বুধবার আমতলী চৌরাস্তা মাছ বাজার ও আমতলী একে স্কুল সংলগ্ন চৌরাস্তা মাছ বাজারে বড়,ছোট, মাঝারী বাজারগুলোতে মাছ বিক্রির হিড়িক পরেছে।বিক্রেতারা যেন ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন।
এদিকে মাছ ধরতে শুরু করেছেন জেলেরা। তাঁদের জালে ধরা পড়ছে প্রচুর ইলিশ, বাজারেও বেড়েছে সরবরাহ। কিন্তু এসব ইলিশের অধিকাংশই ডিমওয়ালা। স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এতসংখ্যক ডিমওয়ালা ইলিশ ধরা পড়ায় মাছের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গত রোববার ও আজ বুধবার আমতলী উপজেলা উপজেলার নাচনাপারা,আরপাংগাশিয়ার কচুপাত্রা,আমতলী পৌরসভার চৌরাস্তা সংলগ্ন মাছ বাজার, আমতলী একে স্কুল সংলগ্ন মাছ বাজার,গুলিসাখালি মাছ বাজারসহ ছোট বড় বাজারগুলোতে বেশ সয়লাব ইলিশে।
এগুলোর অধিকাংশই ডিমওয়ালা। তাই দামও কিছুটা কমেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতাদের কাছে ছোট আকারের ইলিশ বা ‘টেম্পু ইলিশের’ চাহিদা বেশি। সচ্ছল ক্রেতারা কিনছেন বড় ইলিশ। অনেক দিন পর ইলিশের বাজারও কিছুটা চাঙা। বেচাকেনা ভালো হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতারা খুশি।
আমতলী একেস্কুল মাছ বাজারের মাছ বিক্রেতা মো: জাকির বলেন, গতকাল বাজারে প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ এসেছে। আজ প্রায় ২০ মণ ইলিশ এসেছে। এগুলো মধ্যে ছোট ও মাঝারি আকারের মাছই বেশি, অধিকাংশই ডিমওয়ালা। বড় আকারের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি ইলিশ ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় এবং ছোট আকারের প্রতি কেজি ইলিশ ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে দাম কমতে পারে এমনটাই বিক্রেতাদের দাবি।
আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ও ইলিশ মাছ ক্রেতা মো: রিপন মুন্সী বলেন,জেলেরা বেশি দামে মাছ বিক্রি করলেও সংকটে ভুগছে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র ক্রেতারা। যাতে তাদের ইলিশ খাওয়ার অভাব থেকেই যাচ্ছে।অর্থনৈতিক দিক থেকে জেলেরা স্বাবলম্বী হলেও মাছ কেনার স্বপ্ন পূরণ করতে পারছেন না মধ্যবিত্ত ও অসহায় ক্রেতারা।
ইলিশ ক্রেতা মো: সোহেল ফরাজি মাছ না কিনে আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, অভিযান শেষে বাজারে যে হারে ডিমওয়ালা ইলিশ মিলছে, তাতে ইলিশ রক্ষার অভিযানের সুফল ও সফলতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।কেননা জেলেরা হাসছে আর ক্রেতারা কাদছে।
আমতলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় বলেন, বাজারে ডিমওয়ালা ইলিশ সংগ্রহের জন্য মৎস্য বিভাগ থেকে নদীতে বিভিন্ন সময়ে অবরোধ দিয়ে মাছের পোনা বৃদ্ধি করে বড় সাইজের ইলিশে চাহিদা পুরন করাতে সচেষ্ট থাকি। এতে ইলিশ উৎপাদনে প্রভাব পড়বে।তবে তবে জেলেরা মাছ ধরে বেশি দামে বিক্রি করে সেটা আমাদের কিছু করণীয় থাকে না। কারণ জেলেরা হলো মাছের কারিগর বললেই চলে। তারা দাম কম নিবেন কি বেশি নিবেন সেটা একমাত্র তাদের বিষয়।
উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের
+88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।