মোঃ রেজাউল হক রহমত | ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে প্রকাশ্যে গোলাগুলির ঘটনায় রাব্বি (৩০) নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পৌর এলাকার আদালতপাড়ার কালীবাড়ি মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ রাব্বি উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের হেলাল মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় কালীবাড়ি মোড় এলাকায় হঠাৎ করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ শুরু হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলির বিকট শব্দে ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি করে দোকানপাট বন্ধ করে দেন এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। এ সময় রাব্বি বুকে গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করে।
গুলিবিদ্ধ রাব্বি সাংবাদিকদের জানান, তিনি একটি সালিশ বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে বাদানুবাদের একপর্যায়ে গুলির ঘটনা ঘটে। তবে কারা গুলি ছুড়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তিনি শনাক্ত করতে পারেননি।
আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান জানান, “রাব্বির বুকে গুলির আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে নবীনগর থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
সাম্প্রতিক সময়ে নবীনগরে একের পর এক সহিংস ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত ১ নভেম্বর বড়িকান্দিতে পূর্বশত্রুতার জেরে একটি রেস্টুরেন্টে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণে দুজন নিহত হন। এর আগে ২৪ অক্টোবর সাবেক বিএনপি নেতা মফিজুল রহমান মুকুল গুলিবিদ্ধ হন। এসব ঘটনায় জড়িতদের এখনো পুরোপুরি শনাক্ত না হওয়ায় জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে বালুমহলে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া ও অপরাধ দমনে প্রশাসনের কার্যকারিতা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ বাড়ছে।

