ফরিদগঞ্জ চাঁদপুর প্রতিনিধি:
কুদ্দুস মজুমদার।
ফরিদগঞ্জ থানায় পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে চার অজ্ঞাতনামা পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন আহমেদ স্বপন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গত শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদাতুল হাসান আল মুরাদের নির্দেশে এই মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। ল
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বর একটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মো. খোকন (৩৯) আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার সময় পুলিশের বিরুদ্ধে অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন। ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে আসামির শরীরের আঘাতের চিহ্ন পরীক্ষা করে নির্যাতনের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেন। যেহেতু গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের ফরওয়ার্ডিংয়ে কোনো জখমের উল্লেখ ছিল না, তাই আদালত এটিকে হেফাজতে নির্যাতনের গুরুতর প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করে সাত দিনের মধ্যে মামলা করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে ১৭ ডিসেম্বর চাঁদপুর সদর হাসপাতালে খোকনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসক রানা সাহা ও আসিবুল হাসান চৌধুরীর দেওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আসামির দুই পায়ের ঊরুর ওপর একাধিক নীলাফুলা জখম রয়েছে। যদিও পুলিশ ঘটনার তদন্তের জন্য ১৫ দিন সময় চেয়েছিল, কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট তা নাকচ করে দিয়ে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন অনুযায়ী দ্রুত মামলা করার পূর্বের আদেশ বহাল রাখেন।
ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, আদালতের কড়া নির্দেশ পাওয়ার পর ২৭ ডিসেম্বর অজ্ঞাতনামা চার পুলিশের বিরুদ্ধে মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ ইফতেখারকে। মামলার বাদী মো. খোকন ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রবিউল হাসান জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। পুলিশ হেফাজতে এমন নির্যাতনের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

