গোলাম রাব্বি
পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা
উপকূলীয় উপজেলা বরগুনার পাথরঘাটা সহ দক্ষিণের সকল উপজেলায় বইছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। হিমেল বাতাস আর কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, জেলে ও অসহায় পরিবারগুলো। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, শীত নিবারণের আশায় অনেক অসহায় মানুষ ছুটছেন সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে। কিন্তু পর্যাপ্ত কম্বল বা শীতের পোশাক না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে তাদের অনেককেই। ফলে বাধ্য হয়ে কেউ কেউ ভিড় করছেন ফুটপাতের কম দামের শীতবস্ত্রের দোকানে।সবচেয়ে বেশি কষ্টে ছিল মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল)। এবছর শীতের শুরুতেই পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম আহ্বায় বদিউজ্জামান সাহেদও সমাজকর্মী এবং মানবিক ব্যক্তিত্ব মো, মেহেদী শিকদার দুজনে মিলে গভীর রাতে শহরসহ গ্রাম গঞ্জের সকল হাট-বাজার এবং পাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগল) বুদ্ধি প্রতিবন্ধী দের কম্বল এবং জ্যাকেট বিতরণ করেছেন। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের সঙ্গে শীতবস্ত্রের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সেখান থেকেও অনেকেই কিছু কিনতে পারছেন না।
পাথরঘাটা পৌর শহরের ফুটপাতে শীতবস্ত্র কিনতে আসা দিনমজুর পুলক,জাফর জমাদার, নিজামুদ্দিন মোশাররফ ও অটো রিক্সার ড্রাইভার সহ অনেকেই বলেন,
“ভাই, কাজ কমে গেছে, আয় নেই। সরকার বা কারো কাছ থেকেও এখনো কিছু পাইনি। ঠান্ডায় বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। ফুটপাতের দোকানে কম দামের কাপড় দেখছি, কিন্তু সেটাও কেনার মতো টাকা নেই।”
স্থানীয় সমাজসেবক এবং বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সংকল্প ট্রাস্টের পরিচালক মির্জা শহিদুল ইসলাম খালেদ জানান, উপকূলীয় এই অঞ্চলে শীতের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি হলেও শীতবস্ত্র বিতরণ এখনো পর্যাপ্তভাবে শুরু হয়নি। দ্রুত সরকারি উদ্যোগ এবং সমাজের বিত্তবানদের সম্মিলিত সহযোগিতা না এলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, শীতার্ত মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে অবিলম্বে পর্যাপ্ত কম্বল ও শীতের পোশাক বিতরণ নিশ্চিত করা হোক, যাতে এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে অসহায় মানুষগুলো অন্তত ন্যূনতম উষ্ণতা পেতে পারে।
(ছবির ক্যাপশন) পাথরঘাটা (বরগুনা) : পাথরঘাটা শহরের পৌরসভার সামনে অস্থায়ী ভাবে সাজানো হয়েছে পুরাতন কাপড়ের দোকান এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের গভীর রাতে কম্বল ও শীত বস্ত্র বিতরণ করছেন বদিউজ্জামান সাহেব ও পাথরের মানবিক কর্মী মেহেদি শিকদার

