রিয়াদ হাসান (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি ||
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মুফতি মোহাম্মদ বদরুর রেজা সেলিম-এর সমর্থনে ব্যাপক প্রচারণা ও গণসংযোগ চালানো হচ্ছে। ‘চেয়ার’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকা এই প্রার্থী বর্তমানে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
বাহুবল উপজেলার লামাতাসী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। তার বাবা মোহাম্মদ রজব আলী টানা ৫ বার সফল ইউপি মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উত্তরাধিকার সূত্রেই জনসেবার গুণটি তার রক্তে প্রবহমান। তিনি ক্ষমতাকে ভোগ-বিলাসের বস্তু মনে না করে জনগণের ‘আমানত’ হিসেবে গ্রহণ করতে চান। মুফতি সেলিম নিজেও বর্তমানে বাহুবল ও হবিগঞ্জের বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তিনি অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একাধিক মাদ্রাসার পরিচালক ও খতিব হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন।
পারিবারিকভাবে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐতিহ্যের অধিকারী মুফতি সেলিম একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব। তিনি কেবল ধর্মীয় ক্ষেত্রেই নয়, বরং আধুনিক শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো এলাকার শিক্ষাবিস্তারে অবদান রাখছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনকে একটি আধুনিক, দুর্নীতিমুক্ত ও শান্তিময় জনপদে পরিণত করব। বিশেষ করে শিক্ষা ও মানবিক উন্নয়নে আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে করব।” এলাকার সাধারণ ভোটাররা একজন ক্লিন ইমেজের প্রার্থী হিসেবে তার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন।
সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। মুফতি বদরুর রেজা সেলিম একজন বিরল প্রতিভার অধিকারী, যার ঝুলিতে রয়েছে এম.এম, এম.এফ, এম.টিএফ, এম.এ এবং বি.এড-এর মতো একাধিক উচ্চতর ডিগ্রি। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের সেরা বিদ্যাপীঠ থেকে অর্জিত এই শিক্ষা তাকে অন্য প্রার্থীদের থেকে যোজন যোজন এগিয়ে রেখেছে।
এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে তিনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ ‘বিচারক’ হিসেবে সমাদৃত। দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় বিবাদ ও সালিশ-বিচারে তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে আসছেন। অর্থের কাছে বিক্রি না হওয়া এবং সত্যের পক্ষে অটল থাকার গুণটি তাকে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে।
প্রচারণা ছাড়াই আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। করোনাকালীন দুর্যোগ কিংবা আকস্মিক বন্যায় তিনি সামর্থ্যের শেষটুকু দিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ‘মানুষ মানুষের জন্য’—এই নীতিতেই তিনি তার সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।
তিনি কেবল তাত্ত্বিক শিক্ষায় বিশ্বাসী নন, বরং প্রায় ১০টিরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসার সফল পরিচালক হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নবীগঞ্জ ও বাহুবল এলাকায় দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে এবং তরুণদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
মুফতি সেলিমের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো তার অসাম্প্রদায়িক চেতনা। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে তার মূল লক্ষ্য। তার এই উদার মানসিকতা সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে তাকে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
নবীগঞ্জ-বাহুবলের ভোটারদের মতে, কেবল স্লোগান নয়, বরং কাজ ও যোগ্যতার বিচারে মুফতি বদরুর রেজা সেলিম একজন আদর্শ প্রতিনিধি হতে পারেন। একজন উচ্চশিক্ষিত আলেম যখন জনসেবার সংকল্প নিয়ে মাঠে নামেন, তখন সেটি সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। আগামী নির্বাচনে ‘চেয়ার’ মার্কার জয় কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং শিক্ষার ও নৈতিকতার জয় হবে বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।

