বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলাধীন ঈদগাঁও বাজারে একটি স্বর্ণের দোকানের মালিকানা বিরোধ চলে আসছিল।
ঘটনার দিন (২১/০১/২৬) তারিখ ভাতিজারা নূরুল আমিনের মালিকানাধীন দোকানের ভাড়াটিয়াদের ভাড়া না দিতে বারণ করতে যায়। এনিয়ে এক পর্যায়ে চাচা ভাতিজাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক, বাড়াবাড়ি ও হাতাহাতি হয়। এ নিয়ে পরবর্তীতে সামাজিক শালিসি বৈঠক হয়। বৈঠকে ঘাতকদের অপর চাচা ভাতিজাদের চড় থাপ্পড় মেরে বিচার শেষ করে দেন।
এনিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়িতে গিয়ে হত্যার হুমকি ধামকি দিতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ২২/০১/২০২৬ ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে চাচাকে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করে। তাকে বাঁচাতে তার স্ত্রী গেলে তাকেও আহত করা হয়।
একপর্যায়ে চাচার অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ১০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
নিহত ব্যক্তি ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের বাহার ছড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত অসিউর রহমানের ছেলে নুরুল আমিন (৬০)। ঘাতক জয়নাল আবেদীন ও শাহ্ জাহান এবং নিহত নূরুল আমিন উভয়েই আপন চাচা ভাতিজা সম্পর্কের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
স্থানীয় চেয়ারম্যান আলমগীর তাজ জনির কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূলতঃ ঘটনা হচ্ছে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে। আর এমন কোন চেয়ারম্যান অতিবাহিত হয়নি, যারা তাদের বিচার করেননি। ইতিপূর্বে হত্যাকারীদের সাথে বিরোধ চলছিল নিজের পিতার সাথে। পরবর্তীতে নিহত ব্যক্তি ও ঘাতকদের পিতার সাথে বিরোধ চলে। তাও মোটামুটি মীমাংসা হলে এখন শুরু হয় চাচা ভাতিজার মধ্যে।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমইউপি নূরুল আলম জানান, নিহত ব্যক্তি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের সাথে কাজ করলেও যেহেতু আমাদের কর্মী, আমরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও যথাযথ বিচার দাবি করছি। এবং খুনী জয়নাল আবেদীন ও শাহ্ জাহান স্থানীয় জামায়াতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর তাজ জনি জানান।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এবিষয়ে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, আমরা মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ভুক্তভোগীর পরিবার এখনও মামলা করেননি। তারা মামলা করলে, আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তাছাড়া আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত করছি। তদন্তে প্রমাণিত নিহত হলেও আমরা ব্যবস্থা নেব।

