ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট এম এ মান্নানের জনসভা নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত এই জনসভা শুধু একটি নির্বাচনী কর্মসূচিই নয়—বরং এটি ছিল জনমনের অবস্থান ও রাজনৈতিক বার্তার স্পষ্ট প্রকাশ।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জনসভাস্থল পরিণত হয় বিশাল জনসমুদ্রে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন উপস্থিতি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, ভোটাধিকার বঞ্চনার অভিজ্ঞতা এবং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ।
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সভায় ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে যে গণজোয়ার দেখা গেছে, তা নবীনগরের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। মাঠে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সরব উপস্থিতি প্রমাণ করে—এই আসনে ভোটের রাজনীতিতে বিএনপি এখনও একটি বড় ও সংগঠিত শক্তি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট এম এ মান্নান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং নবীনগরের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের প্রশ্নকে সামনে আনেন। তিনি বলেন, এই লড়াই কোনো একক প্রার্থীর নয়, এটি জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। তার বক্তব্যে ব্যক্তিগত প্রচারণার চেয়ে রাজনৈতিক আদর্শ ও গণআকাঙ্ক্ষার বিষয়টি প্রাধান্য পায়।
অন্যান্য বক্তারাও স্থানীয় রাজনীতির বিভাজন ও অভ্যন্তরীণ দূরত্বের প্রসঙ্গ টেনে সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা স্পষ্ট করেন, ধানের শীষের বিজয় মানেই নবীনগরে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা।
জনসভা শেষে অনুষ্ঠিত বিশাল মিছিলটি ছিল এই জনসমাগমের বাস্তব প্রতিফলন। নবীনগর শহরের প্রধান সড়কগুলোয় মিছিলের স্রোত নির্বাচনী মাঠে শক্তির রাজনীতির একটি দৃশ্যমান বার্তা দেয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই জনসভা এম এ মান্নানের সাংগঠনিক শক্তি ও জনভিত্তির অবস্থান স্পষ্ট করেছে। একই সঙ্গে এটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য এক ধরনের চাপও তৈরি করেছে। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, নবীনগরের ভোটের রাজনীতিতে ধানের শীষ যে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে—এই জনসভা তারই বাস্তব প্রমাণ।

