জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরের পাঁচটি আসনে ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, গণ অধিকার পরিষদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২৪ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদীয় আসনে প্রার্থী বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ বা কমপক্ষে ১২ শতাংশ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জন নির্ধারিত ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারেননি। ফলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
জামালপুর-১ (বকশীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ)
এই আসনে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ২ লাখ ৮ হাজার ৯৪৬ জন ভোটার ভোট দেন। লাঙ্গল প্রতীকের এ কে এম ফজলুল হক পেয়েছেন ৯৩১ ভোট, ট্রাক প্রতীকের মো. রফিকুর ইসলাম ২২৬ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীকের মো. আব্দুর রউফ তালুকদার ৪ হাজার ১২১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত পেয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী নাজমুল হক সাঈদী পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৮২০ ভোট। ৭৫ হাজার ৮৩৬ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
জামালপুর-২ (ইসলামপুর)
এই আসনে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৬২ হাজার ৬৫২টি। স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী অর্ণব ওয়ারেস খান পেয়েছেন ১৭৪ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সুলতান মাহমুদ পেয়েছেন ১ হাজার ৭১৩ ভোট। তারা জামানত হারিয়েছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ ই সুলতান মাহমুদ বাবু পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৮৬০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. ছামিউল হক পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪৩৪ ভোট। ৩৩ হাজার ৪২৬ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ)
এই আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ২২ হাজার ৭০৯টি। স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের ফারজানা ফরিদ পেয়েছেন ২৮৪ ভোট, কাপ-পিরিচ প্রতীকের সাদিকুর রহমান ১২ হাজার ৫২ ভোট এবং সূর্যমুখী ফুল প্রতীকের শিবলুল বারী রাজু ১০ হাজার ৫২৩ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
এছাড়া মাথাল প্রতীকের ফিদেল নঈম ৬৪৩ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকের মীর সামসুল আলম ৮৪৪ ভোট, হাতপাখা প্রতীকের দৌলুজ্জামান আনছারী ২ হাজার ৫৪৬ ভোট এবং ট্রাক প্রতীকের লিটন মিয়া ৪১২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল পেয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ৪১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আজাদী পেয়েছেন ৮১ হাজার ৪৩০ ভোট। ১ লাখ ২৫ হাজার ৯৮২ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।
জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী)
এই আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮৬১টি। ট্রাক প্রতীকের ইকবাল হোসেন পেয়েছেন ৩৮৩ ভোট, হাতপাখা প্রতীকের মো. আলী আকবর ১ হাজার ৩০২ ভোট, কেটলি প্রতীকের মো. কবির হাসান ৩৭৯ ভোট এবং কাস্তে প্রতীকের মো. মাহবুব জামান জুয়েল ১ হাজার ৩১৪ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৪০৬ ভোট। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৯৪৭ ভোট। ১ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
জামালপুর-৫ (সদর)
এই আসনে সবচেয়ে বেশি, মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ২৯ হাজার ৯৭০টি। ডাব প্রতীকের আবু সায়েম মো. সা-আদাত উল করিম পেয়েছেন ২২৫ ভোট, ট্রাক প্রতীকের জাকির হোসেন ৫৩৯ ভোট, স্বতন্ত্র ফুটবল প্রতীকের মাসুদ ইব্রাহীম ৩৫৪ ভোট, তারা প্রতীকের আমির উদ্দিন ৫৮০ ভোট, বাইসাইকেল প্রতীকের বাবর আলী খান ৩ হাজার ৭৩৯ ভোট, কাস্তে প্রতীকের আক্কাছ আলী ৫৪৭ ভোট, স্বতন্ত্র হরিণ প্রতীকের হোছনেয়ারা বেগম ২৪৫ ভোট এবং হাতপাখা প্রতীকের ইউনুস আহাম্মদ ৪ হাজার ২৮২ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। পোস্টাল ব্যালটসহ প্রাপ্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ ওয়ারেস আলী মামুন ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২০১ ভোট। ৮৬ হাজার ১৪৩ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থীর জয় হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি জেলায় ৬২৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৩৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক

