রামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিমকে ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে বইছে নতুন হাওয়া। দীর্ঘদিনের রাজপথের লড়াই আর সাহসী নেতৃত্বের পুরস্কার হিসেবে তিনি নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন—এমন জোর আলোচনা এখন তুঙ্গে।
জানা যায়, শাহাদাত হোসেন সেলিম কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসন আমলে তিনি ছিলেন একজন আপসহীন যোদ্ধা। রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে যেমন তাকে সম্মুখভাগে দেখা গেছে, তেমনি টেলিভিশন টকশোতে তার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর ছিল জালিম সরকারের জন্য আতঙ্কের কারণ।
বিগত সময়ে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম শরিক হিসেবে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। নিজের রাজনৈতিক সত্তাকে বৃহত্তর স্বার্থে বিলীন করে নির্বাচনের আগে তিনি তার দল বাংলাদেশ এলডিপি বিলুপ্ত করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। ফলস্বরূপ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ধানের শীষের কাণ্ডারি হিসেবে তাকে বেছে নেয় বিএনপি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে শাহাদাত হোসেন সেলিমের প্রতি তাদের আস্থা প্রকাশ করেছেন। তার এই বিজয়কে দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ফসল হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ভোটাররা। জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এখন আলোচনা শুরু হয়েছে তার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে।
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা জানান, শাহাদাত হোসেন সেলিম বাংলাদেশ এলডিপি বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদানের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও ঐক্যের পরিচয় দিয়েছেন। স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ আমলে নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে টকশো এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দলের নীতি ও জনগণের অধিকার নিয়ে তার সাবলীল উপস্থাপনা তাকে সারা দেশে পরিচিতি দিয়েছে। শুধু তাই নয়, বিগত ১৬ বছরের দমন-পীড়নের মধ্যেও তিনি মাঠ ছাড়েননি, যা তাকে দলের হাইকমান্ডের কাছে বিশ্বস্ত করে তুলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে তাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে।
স্থানীয় এক দলীয় কর্মী জানান, সেলিম ভাই শুধু আমাদের নেতা নন, তিনি সারা দেশের প্রতিবাদী কণ্ঠ। তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখা এখন সময়ের দাবি। এখন দেখার বিষয়, নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুরের এই নেতার মুকুটে নতুন কোনো পালক যুক্ত হয় কি না।
উল্লেখ্য যে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০২২ সালের ২৮ মার্চ বলেছিলেন, ‘নির্বাচনের পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের নিয়ে সরকার গঠন করা হবে। হোক তিনি বিজিত কিংবা পরাজিত।’ শুধু তাই নয়, তারেক রহমানের আহ্বানে নিজের দল বিলুপ্ত করে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন সেলিম।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যুগপৎ আন্দোলনের মোট ১৫ জনকে মনোনয়ন দিয়েছিল বিএনপি। তার মধ্যে ৭ জন নিজেদের দল বিলুপ্ত করে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছেন। বিজয়ী হয়েছেন ২ জন।
তারা হলেন, শাহাদাৎ হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ। অন্যদিকে ৮ জন তাদের দলীয় প্রতীকে অংশ নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন ৩ জন।

