আল আমিন বিশেষ প্রতিনিধিঃ
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের দায়ে পাঁচজনকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বহুমহল ও বালুমহাল ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০–এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে ১৫(১) ধারা অনুযায়ী এ দণ্ড প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দিতা রানী ভৌমিক।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—বিনাইগাতী উপজেলার কাংশা গ্রামের আকবর কাসেমের ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩০), জামসেদ আলী শেখের ছেলে আব্দুল মমিন (৩৪) ও জটু শেখের ছেলে মোনা সরকার (২৯)। এছাড়া শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুড়ি এলাকার জাহের আলীর ছেলে হানিফ উদ্দিন (৪৫) এবং ঝাড়মোড়া গ্রামের হাজী করিম উদ্দিনের ছেলে কেমার আলী (৫০)।
অভিযান শেষে দণ্ডপ্রাপ্তদের থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলা এলাকায় বর্তমানে বালুমহালের ইজারা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে গোপনে নদী ও বিভিন্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন এবং পরিবহন করে আসছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীর ভাঙন, কৃষিজমির ক্ষতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধ বালু ব্যবসা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে সচেতন মহল মনে করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল-আমিন বলেন, “আইন অমান্য করে কেউ বালু উত্তোলন বা পরিবহন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানা গেছে।

