• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • নদী রক্ষায় প্রশাসন ‘নির্লিপ্ত’, সক্রিয় ‘বালু খেকো’ চক্র: অস্তিত্ব সংকটে ঠাকুরগাঁওয়ের নদ-নদী 

     swadhinshomoy 
    26th Mar 2026 6:06 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    ​ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
    ঠাকুরগাঁওয়ের নদ-নদী রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একদিকে ঘটা করে ‘নদী বাঁচাও’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রভাবশালী ‘বালু খেকো’ চক্রের বেপরোয়া খননযজ্ঞে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে নদীর বুক। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের দায়সারা অভিযানের সুযোগে রাতের আঁধারে এমনকি দিনের আলোতেও অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে হুমকিতে পড়ছে আবাদি জমি, বসতভিটা ও সরকারি কোটি টাকার বাঁধ।
    ​সরেজমিনে দৃশ্যপট।​জেলার প্রাণ হিসেবে পরিচিত টাঙ্গন, শুক ও সেনুয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে সরেজমিনে দেখা গেছে এক ভয়াবহ চিত্র। প্রশাসনের যথাযথ তদারকি না থাকায় ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবাধে তোলা হচ্ছে বালু। প্রতিদিন মাহিন্দ্র ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে শত শত গাড়ি বালু সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝেমধ্যে লোকদেখানো অভিযান চালানো হলেও মূল হোতারা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
    ​অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলায় সেনুয়া গোরস্থান ওপারে বর্ষা আসার আগেই নদীর পাড় ধসে পড়ছে।​ নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে এবং মাছের প্রজনন ক্ষেত্রসহ দেশীয় প্রজাতির জলজ প্রাণী ধ্বংস হচ্ছে। ​নদীর ওপর নির্মিত কোটি টাকার ব্রিজ এবং সংলগ্ন সড়কগুলো যেকোনো সময় ধসে পড়ার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে ​স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নদী দখল ও দূষণমুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছে। তারা বলছেন, প্রশাসন যদি সত্যিই কঠোর হতো, তবে একই জায়গায় বারবার বালু উত্তোলন করা সম্ভব হতো না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। অভিযানের পরদিন থেকেই আবার বালু তোলা শুরু হয়। মনে হয় বালু খেকোদের দাপটের কাছে প্রশাসনও নিরুপায়।”​অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সরাসরি ছত্রছায়ায় বালু উত্তোলনের এই উৎসব চলছে। বালুর উচ্চমূল্য এবং সহজলভ্যতার কারণেই এই চক্রটি কোনো আইনি বাধাই মানছে না।এর মধ্যে গোয়াল পাড়ার সক্রিয় বালু খেকো চক্র হকদল, ফুল, তলিপাড়া, বট তলিতে, বাসিয়া দেবী, চৌরুগী দেবীগঞ্জ বাজার, ঢোলোরহাট, আখানগর রুহিহা আরো আনেক জায়গায় প্রভাবশালী ক্ষমতাধর লোকের দারা এইসব ভালো কাজ হয়।
    প্রশাসন মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু জরিমানা করলেও তা এই চক্রের বিশাল আয়ের তুলনায় নগণ্য।​এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রয়েছে। জনবল সংকট এবং সঠিক ভাবে তথ্য না পাওয়ার কারণে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে খুব শীঘ্রই আরও কঠোর এবং সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।​ঠাকুরগাঁওয়ের নদীগুলোকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। কেবল কাগজের কলমে নয়, বরং বাস্তবে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে না পারলে নদীগুলো মরা খালে পরিণত হবে। প্রকৃতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে ‘বালু খেকো’দের হাত থেকে নদীকে মুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    March 2026
    S M T W T F S
    1234567
    891011121314
    15161718192021
    22232425262728
    293031