এস আলম, দিগপাইত প্রতিনিধি
জামালপুর সদর উপজেলার ১৪ নং দিগপাইত ইউনিয়নে সরকার ঘোষিত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় সুলভ মূল্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সশ্রয় মূল্যে চাল পেয়ে নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত বিশেষ নির্দেশনায় ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে মোট ২১৫৬ জন কার্ডধারী উপকারভোগীর মাঝে এই চাল বিতরণ করা হবে। চারটি নিবন্ধিত ডিলারের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি কার্ডধারী ব্যক্তি মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে মোট ৩০ কেজি চাল সংগ্রহ করতে পারছেন। অর্থাৎ, মাত্র ৪৫০ টাকাতেই পাওয়া যাচ্ছে পুরো এক মাসের চাল।
সরেজমিনে ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, কার্ডধারীরা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল সংগ্রহ করছেন। উপকারভোগীরা সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করলেও একটি সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন। কিছু উপকারভোগীর অভিযোগ, তাদের বাড়ির কাছের ডিলারের পরিবর্তে অন্য ওয়ার্ডের মাস্টার রোলে নাম থাকায় দূরবর্তী স্থানে গিয়ে চাল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে যাতায়াত খরচ ও ভোগান্তি—দুই-ই বাড়ছে।
ডিলারদের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই এলাকাভিত্তিক সমস্যা সমাধান করলে সাধারণ মানুষের কষ্ট অনেকটা লাঘব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে দিগপাইত ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান রাহাত হোসেন বলেন:”মাস্টার রোলে নাম কিছুটা এলোমেলো হওয়ার কারণে এক ওয়ার্ডের কার্ড অন্য ওয়ার্ডে চলে গেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি এবং এটি সংশোধনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুতই উপকারভোগীরা তাদের নিকটস্থ ডিলারের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ করতে পারবেন।”
এদিকে ডিলার মেসার্স মীম এন্ড পুষ্প এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শেখ মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনেই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যেন কোনো হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে তারা বিশেষ নজর রাখছেন।
বিতরণ কার্যক্রম চলাকালীন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চাল বিতরণে যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধে প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হয়েছে।

