• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • মাদারীপুরে ফসলি জমিতে ইউপি চেয়ারম্যানের মাছের ঘের নির্মানের চেষ্টা, ১৪৪ ধারা জারি। 

     swadhinshomoy 
    23rd Aug 2025 8:05 am  |  অনলাইন সংস্করণ Print
    মোঃ মনির হোসেন পরাগ,জেলা প্রতিনিধিঃকৃষি জমির শ্রেনী পরিবর্তন করা যাবেনা  বাংলাদেশ সরকারের এমন নীতিমালা থাকলেও অনেকেই সরকারের নীতিমালাকে বৃদ্ধঙ্গুলী দেখিয়ে অহরহ অনেকেই ফসলি জমিন কেটে তৈরি করছেন মাছের ঘের। এক শ্রেনীর অসাধু কিছু ব্যাক্তি বিভিন্ন মহলকে নিয়ন্ত্রণ করে কৃষি জমিতে করছেন মাছের ঘের। এমনি এক অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে স্থানীয় এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

    মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলাধীন ডাসার ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কৃষকদের ফসলি জমিতে মাছের ঘের করার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে ভুক্তভোগীরা মামলা করলে। পরিস্থিতি শান্ত রাখার জন্য ঐ স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করেন মাদারীপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। উক্ত ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বিরাজ করছে এক ধরনে চাপা উত্তেজনা।
    স্থানীয় সুত্রে জানাযাায় মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলাধীন ডাসার ইউনিয়নের গোপালসেন, কালাইতলা, জ্বীনবারি মৌজার ৭৫-৮০ একর জমিতে ধান উৎপাদন করেন এলাকার কয়েকশ’ কৃষক। এই চাষাবাদের সাথে জড়িত আছেন বিভিন্ন শ্রমজীবি মানুষ। সেখানকার কিছু জমি ভাড়া ( লিজ)  নিয়ে বেশকিছুদিন ধরে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি খনন করে মাছের ঘের নির্মাণ কার্যক্রম শুরু করে আসছেন স্থানীয়  ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল করিম ভাষাই শিকদার। এতে করে জমির শ্রেনী পরিবর্তন সহো ব্যাপক ক্ষতির সম্ভবনা হওয়ার আশঙ্কায় করে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয়রা। বিষয়টির তদন্তের দায়িত্ব পান ডাসার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। পরে সরেজমিন পরির্দশণ শেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রশাসনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন ডাসার উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকতা মিল্টন বিশ্বাস। প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগের ৭৫-৮০ একর জমির মধ্যে ৩৫-৪০ একর জমি নষ্ট করে ড্রেজার ও ভেকু দিয়ে মাটি খনন করে মৎস খামার বানানো হলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। ফসলি জমি নষ্ট করে মাছের ঘের নির্মানে জমির শ্রেণি পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। এরপর উপজেলা প্রশাসন মাটি কাটা বন্ধ করতে বললেও তাতে কর্নপাত করেননি অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান। কোন এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তিনি তার খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে কোন উপায়ান্তর দেখতে না পেয়ে হানিফ মোল্লা নামে এক ভুক্তভোগী মাদারীপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে
     গত ১৮ আগস্ট ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আল নোমান। এ সময় আদালত শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডাসার থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। একইসাথে উপজেলা ভুমি সহকারি কমিশনারকে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতেও বলা হয়।
    কৃষক হানিফ মোল্লা বলেন, আমার জমিতে ইউপি চেয়ারম্যান জোরপূর্বক মাছের ঘের নির্মানের চেষ্টা করছেন। এতে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। জমিতে মছের ঘেরহলে আমি ও আমার পরিবার না খেয়ে মারা যাবো।’
    স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন মাতুব্ব বলেন, ‘২৫-৩০ বছর ধরে আমার বাবা শাহেব আলী মাতুব্বর ব্লক করে ধান উৎপাদন করে আসছে। পরে আমরাও ধান চাষাবাদে করে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু চেয়ারম্যান রেজাউ করিম ভাষাই শিকদার মাছের ঘের নির্মাণ করলে আমাদের পরিবারেও  দুর্দশা নেমে আসবে।
    সুজন মাতুব্বর বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান
    দেশ তাই এভাবে দিনের পর দিন কৃষি জমি নষ্টো হলে কৃষি জমির পরিমান যেমন কমবে তেমনি খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি দেখদিবে। আর তাই কৃষক না খেয়ে মরবে।কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে তাই আমাদের সবার প্রত্যাশা শুধু আইন করেই না থেকে আইনের সঠিক প্রয়োগ করে বন্ধো করতে হবে কৃষি জমির এমন ধ্বংসযজ্ঞ।
    তিনি আরো বলেন এখানে মাছের ঘের হলে জীববৈচিত্রের ব্যাপক পরিবর্তণ হবে। এতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হবে। আমরা চাই না এখানে মাছের ঘের করা হোক। প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন যাতে দ্রুত এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যাবস্থা নেয়।’
    ডাসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম ভাষাই শিকদার বলেন, ‘আমি কয়েকজন কৃষকের জমি ভাড়া (লিজ) নিয়েছি। তাদের ওই জমিতে তেমন কোন ফসল হয় না। তাই কৃষকদের মতামত নিয়ে জমি ভাড়া করে সেখা ভেকু দিয়ে মাটি কেটে মাছের ঘের নির্মানের চেষ্টা করছি। কিন্তু কাজ শুরুর পর পরই একের পর এক বাধা আসছে। তাই কাজ আপাতত বন্ধ রেখেছি। মূলত আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য একটি পক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে।’
    ডাসার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুবির চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ‘জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ডাসার থানায় চিঠি দেয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে ১৪৪ ধারার নোটিস জারি করে। দুইপক্ষকেই আইন মেনে থাকতে বলা হয়েছে।’
    মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, ‘ফসলি জমিতে মাছের ঘের নির্মানের কোন বিধান নেই। কৃষকদের কথা চিন্তা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। জেলা প্রশাসনকে কৃষি কর্মকর্তার তদন্ত রিপোর্টও পাঠানো হয়েছে।’
    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    August 2025
    S M T W T F S
     12
    3456789
    10111213141516
    17181920212223
    24252627282930
    31