গৌতম কুমার মহন্ত,নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর গণপূর্ত বিভাগের মাস্টার রোলের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে আদালত চত্বরে গবাদী পশু খামার গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।মাস্টার রোলে চুক্তিভিত্তিক চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মুমিনুল ইসলাম মুমিন তার পরিবারসহ আদালত চত্বরে বসবাস করাসহ গবাদী পশু খামার গড়ে তোলা নিয়ে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।স্থানীয়রা বলছেন,গণপূর্ত বিভাগের অসাধু এক কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় কয়েক বছর আগে মুমিনুল ইসলাম মুমিন সরকারি জায়গা দখল করে বসবাস করাসহ গড়ে তোলা গবাদি পশু খামার তৈরি করে।সুত্রমতে গণপূর্ত বিভাগ কার্যালয় থেকে মুমিন তার খামার ও আবাসস্থলে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বিলাসী জীবন যাপন করে আসছে।ওই চত্বরে গড়ে ওঠা গবাদী পশু খামারের বর্জ্যের দুর্গন্ধে আদালতে আসা বিচার প্রার্থী এবং আইনজীবিসহ সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।মুমিনুল ইসলাম মুমিন চুক্তিভিত্তিক চাকুরী করতেন নওগাঁ গণপূর্ত বিভাগে পাম্প অপারেটর হিসাবে।গত প্রায় ৩ বছর আগে তিনি মাস্টার রোলের চাকরি থেকে অবসরে যান।অভিযোগ রয়েছে, মুমিনুল ইসলাম মুমিন গণপূর্ত অধিদফতরে চাকরি করার সময় জেলা আদালত চত্বরে বসবাসের জন্য তাকে সরকারিভাবে একটি ঘর বরাদ্দ দেয়া হলেও ওই ঘরের পাশে অন্তত ৩ টি ঘর দখল করে প্রাচীর তুলে সরকারি চাকরিজীবি সন্তানসহ স্ব-পরিবারে বসবাস করার পাশাপাশি সেখানে গরু-ছাগল ও হাঁস মুরগির খামার তৈরি করেছেন। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, ওই গবাদি পশু খামারে এবং মুমিনুল ইসলামের বসবাসের ঘরে থাকা বিদ্যুৎ চালিত ৯ টি ফ্যান, ফ্রীজ, গিজার ও চুলার বিদ্যুৎ বিল বহন করে সংশ্লিষ্ট গণপূর্ত বিভাগ।এ বিষয়ে, নওগাঁ জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক শওকত ইলিয়াস কবির বলেন, পাম্প অপারেটর মুমিনুল ইসলাম মুমিনের গরু-ছাগল খামারের বর্জ্যের দুর্গন্ধে এ্যাডভোকেটরা ঠিকমত তাদের চেম্বারে বসতে পারে না।এতে করে একদিকে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে অপর দিকে তাদের আইনী কার্যক্রম চালাতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হওয়ার ফলে অনেক সময় আদালতে আসা বিচার প্রার্থীরা সমস্যায় পড়ছে।বিষয়টি প্রশাসনের দ্রুত খতিয়ে দেখার দাবী জানান তিনি।এ বিষয়ে, মুমিনুল ইসলাম মুমিন কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। নওগাঁ জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মিজানুর রহমান মুঠো ফোনে বলেন,মুমিনুল ইসলাম নওগাঁ গণপূর্ত অধিদফতরে মাস্টার রোলে পাম্প অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন, তার চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ায় অবসরে থাকলেও এখনো তিনি পাম্প অপারেটর হিসেবে দায়িত্বে আছেন। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী মুমিনুল ইসলাম সরকারী জায়গা দখলে নিয়ে গণপূর্ত ও আদালত চত্বরে গরু-ছাগলের খামার গড়ে তোলা নিয়ে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে রাখেন।

