দক্ষিণ-পূর্ব স্পেনের জুমিলা শহর প্রশাসন স্থানীয় ক্রীড়া কেন্দ্রে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা সহ যেকোনো ধর্মীয় সমাবেশ আয়োজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই পদক্ষেপটি প্রথমে প্রস্তাব করে চরম-ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ভক্স, যা পরে কিছু সংশোধনীর মাধ্যমে অনুমোদন পায়। বহু বছর ধরে শহরের মুসলিম সম্প্রদায় এই স্পোর্টস সেন্টারগুলোতে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করে আসছিলেন।নিষেধাজ্ঞার ফলে মূলত শহরের মুসলিম জনগোষ্ঠী প্রভাবিত হবে বলে সমালোচকরা মনে করছেন। বামপন্থি সরকার এবং জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে একে “ইসলামবিদ্বেষী” মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।শহরের মেয়র সেভে গনজালেস জানান, এই নীতি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নয়; বরং শহরের সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের জন্য নেওয়া হয়েছে। তবে স্পেনের ইসলামিক কমিউনিটিস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এল ঘাইদুনি বলেন, এটি আসলে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ইসলামবিদ্বেষের উদাহরণ, যা ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।স্পেনের অভিবাসন মন্ত্রী এলমা সাইয এই সিদ্ধান্তকে “লজ্জাজনক” বলে উল্লেখ করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের নীতি সেইসব নাগরিকদের ক্ষতিগ্রস্ত করে, যারা বহু বছর ধরে এই অঞ্চলে বসবাস করছেন, সমাজে অবদান রাখছেন এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সাথে মিশে গেছেন।জাতিসংঘের ইসলামবিদ্বেষবিরোধী বিশেষ দূত মিগেল মোরাতিনোসও এ সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, এটি চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হানে—যা মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণায় সুরক্ষিত। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, কোনো নীতি যদি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বা অতিরিক্ত প্রভাবিত করে, তবে তা সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।ঐতিহাসিকভাবে স্পেন শতাব্দীর পর শতাব্দী মুসলিম শাসনের অধীনে ছিল, যার প্রভাব এখনো দেশটির ভাষা, স্থাপত্য ও সংস্কৃতিতে বিদ্যমান—যেমন গ্রানাডার বিখ্যাত আলহাম্ব্রা প্রাসাদ। তবে ১৪৯২ সালে শেষ মুসলিম শাসন পতনের পর থেকে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট পাল্টে যায়।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পৌরসভা পরিচালিত ক্রীড়া সুবিধাগুলো শুধুমাত্র খেলাধুলা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আয়োজিত অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করা যাবে। পৌরসভার সঙ্গে সম্পর্কহীন কোনো সাংস্কৃতিক, সামাজিক বা ধর্মীয় কার্যক্রম এসব স্থানে আয়োজন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

