মোঃশাকিল আহমেদ মোড়ল,গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র মাওনা ফ্লাইওভার এখন অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। প্রতিদিন হাজারো মানুষের যাতায়াতের প্রধান এই পথ দিনের বেলায় ব্যস্ত জনপথ হলেও রাত নামলেই রূপ নেয় ভয়ঙ্কর চিত্রে—চুরি, ছিনতাই, মাদকদ্রব্য বিক্রি, অবৈধ দোকান বসানো, চাঁদাবাজি এবং এমনকি ছিনতাইকারী বিরোধে হত্যাকাণ্ডও ঘটে যাচ্ছে মানুষের চোখের সামনেই।স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্লাইওভারের নিচে অপরাধীদের আস্তানা তৈরি হয়েছে। নেশা ও মাদকদ্রব্য বিক্রির আড্ডাখানা রাতের অন্ধকারে সক্রিয় থাকে। অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন থেকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চলছে, রাস্তার মাঝখানে অবৈধ দোকান বসিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসবের ফলে এলাকাবাসী চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এলাকাবাসী অবিলম্বে মাওনা ফ্লাইওভার ও এর নিচের প্রতিটি অংশে আধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, সিসি ক্যামেরা স্থাপন হলে অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ, আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং সামগ্রিক জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।স্থানীয় নাগরিক সমাজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে—
“জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব, কিন্তু দাবি আদায় করা জনগণের অধিকার। প্রশাসন যদি ব্যর্থ হয়, জনগণ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”এলাকাবাসীর ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে এই অপরাধপ্রবণ এলাকা নিয়ে প্রশাসন উদাসীন। অপরাধীরা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে মাওনা চৌরাস্তা শ্রীপুরের জন্য অভিশাপে পরিণত হবে।সাধারণ মানুষ ও সামাজিক সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই সোচ্চার হয়ে উঠেছে। তারা ঘোষণা দিয়েছে—
“জুলুম-অন্যায়-অপরাধমুক্ত শ্রীপুর গড়ব আমরা – ইনশাআল্লাহ!”
“মাওনা চৌরাস্তা হোক নিরাপদ – এটি জনগণের মৌলিক অধিকার!”প্রশাসনের উদ্দেশে এলাকাবাসীর শেষ সতর্কবার্তা—
আজই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে পদক্ষেপ নিন, নতুবা আগামী দিনগুলোতে মাওনা চৌরাস্তা হবে জনআন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু।

