রিয়াজুল ইসলাম, হাতিয়া প্রতিনিধিঃ
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এ রায়ের পর বিশ্বের কয়েকটি দেশ আইসিসির নির্দেশনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেও এবার সরাসরি গ্রেফতার করার ঘোষণা দিল ইউরোপের দেশ নরওয়ে।
নরওয়ের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেয়াস ক্রাভিচ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নেতানিয়াহু নরওয়েতে পা রাখলেই আইসিসির নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে গ্রেফতার করা হবে। তিনি বলেন, “আমাদের দেশ আইসিসির অন্যতম সদস্য রাষ্ট্র। আদালতের রায় বাস্তবায়ন করা আমাদের আইনি বাধ্যবাধকতা। নরওয়ের ভূমি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক অপরাধে অভিযুক্ত কেউ দায়মুক্তি পাবে না।”
ক্রাভিচ আরও বলেন, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি নরওয়ের অঙ্গীকার ও আইসিসির ম্যান্ডেটের প্রতি পূর্ণ সমর্থনের প্রতিফলন। তার মতে, যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের অন্যতম শর্ত।
আইসিসির রায় ঘোষণার পর নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডেও আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি মন্তব্য করেন, “গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে দায়মুক্তির সুযোগ নেই। আইসিসি বিশ্বব্যাপী জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, আর নরওয়ে সবসময় সেই প্রচেষ্টার অংশ হয়ে থাকবে।”
এর আগে নেদারল্যান্ডস, স্পেনসহ ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশও আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে। তবে নরওয়ে প্রথম ইউরোপীয় দেশ যারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিল যে, নেতানিয়াহু তাদের দেশে প্রবেশ করলে সরাসরি গ্রেফতার করা হবে।
গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা ইসরাইলি হামলায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও পর্যবেক্ষকরা একে স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। আইসিসি এই প্রমাণের ভিত্তিতেই নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।
বিশ্লেষকদের মতে, নরওয়ের এই ঘোষণা শুধু প্রতীকী বার্তাই নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইনের শক্ত অবস্থানেরও প্রমাণ। এতে বিশ্বব্যাপী আইসিসির কার্যকারিতা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা আরও দৃঢ় হবে।

