মোহাম্মদ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সকল নির্বাচনী এলাকায় সকল দলের প্রার্থীদের বিচরণ শুরু হয়েছে। অনেকে আগে থেকে তাদের নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে সব সময় তৃণমূলের নেতাকর্মী ও জনসাধারণের পাশে থাকতে দেখা গেলেও কিছু কিছু নেতা শুধুমাত্র মনোনয়ন পাওয়ার জন্য বর্তমানে নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সমর্থন ও জনগণের দোয়া কামনা করে যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম ৮ নির্বাচনী এলাকাটি হল বোয়ালখালী চান্দগাও পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামি থানার আংশিক এলাকা। চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা হওয়ায় এ আসনটিতে সবার নজর রয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির দুর্গ বলে পরিচিত বোয়ালখালী উপজেলার অধিকাংশ ভোটার বিএনপিকে সমর্থন করে। তাই সকল দলের প্রার্থীর নজর তাকে সবসময় বোয়ালখালীর ভোটারের দিকে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিদায় বেশ আগে থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রতিদিন কোন না কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টায় রয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে বেশ কয়েকজন মনোনয়নের জন্য দৌড়ে থাকলেও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান। তিনি ২০১৮ সালের প্রহসন মূলক নির্বাচনে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে হেরেছিল যদিও সেটা ছিল তামাশার নির্বাচন। সে সময় বিএনপির এ প্রার্থীর অভিযোগ ছিল কৌশলগতভাবে তাকে হারিয়ে দেয়া হয়েছিল কিন্তু নির্বাচনী ভোটে সে জয়লাভ করেছে। পরবর্তীতে এ আসনের এমপি মইনুদ্দিন খান বাদল মারা গেলে ২০১৯ সালের উপনির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছিল আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান। সে সময আরো প্রার্থী হতে চেয়েছিল চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ উল্লাহ বোয়ালখালীর বিএনপি নেতা আলহাজ্ব মোস্তাক আহমেদ। তাদের চাইতে মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে থাকায় সে সময় আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান কে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিএনপির মনোনয়ন বোর্ড। তৃণমূলের পছন্দের তালিকা এবং ভোটারদের পছন্দনীয় হওয়ায় আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে বিএনপি থেকে।
এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের শাসনামল পর্যন্ত প্রায় ৬০ মামলার আসামি আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বিভিন্ন সময় কারণে-অকারণে কারাবরণ করেছেন বেশ কয়েকবার। রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান চট্টগ্রামের তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রিয় পাত্র হিসেবেই পরিচিত।
রাজনীতির শুরু থেকেই আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান সরাসরি বিএনপির সাথে জড়িত থেকে এখনো পর্যন্ত সুনামের সহিত তার রাজনৈতিক যাত্রা অব্যাহত রেখেছে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দিয়ে তৃণমূলের মূল্যায়নকে গুরুত্ব দিবেন বলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন। এ বিষয়ে আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান বলেন আগামী নির্বাচনে দল নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে সর্বোচ্চ ভোটে জয়ী হয়ে বিএনপিকে এ আসনটি উপহার দেয়ার চেষ্টা করব। পাশাপাশি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের দুঃখ দুর্দশা লাগবে সব সময় কাজ করে যাবে।
তৃণমূলের নেতা কর্মীরা বলেন আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান আগে থেকেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে ছিল। বিপদে আপদে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে নির্বাচনী এলাকার সকলের খোঁজ খবর রাখে বিদায় তাকে চট্টগ্রাম ৮ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ দিলে সরাসরি সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ পাবে বলে নেতা কর্মীরা মনে করেন। ক্লিন ইমেজের একজন প্রার্থী হিসেবে আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান যোগ্য বলে নেতাকর্মীরা দাবি করেন। আবু সুফিয়ান বলেন দল থেকে তাকে মনোনয়ন দিয়ে এ আসন থেকে নির্বাচন করার সুযোগ দিলে মাদক মুক্ত সমাজ উপহার দিবে এলাকাবাসীকে। জুলাই অভ্যুত্থানে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ফলস্বরূপ স্বৈরাচারী সরকারের বিদায় নিয়ে তিনি বলেন একটি বৈষম্য বিরোধী সমাজ উপহার দিতে এলাকাবাসীকে নিয়ে কাজ করে যাবেন তিনি। এলাকার আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা নিয়ে তিনি বলেন চট্টগ্রাম ৮ আসনের নির্বাচনী এলাকায় যাতে সব সময় শান্তি বিরাজ করে এবং আইন-শৃঙ্খলার যাতে কোন প্রকারের অবনতি না হয় তার জন্য রাত দিন কাজ করে যাবেন তিনি। একটি শান্তিপ্রিয় এলাকা হিসেবে এ আসনকে উপহার দিতে চান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে। ফ্যাসিবাদীদের আমলে যে জনপ্রিয়তা এলাকায় ছিল সেই জনপ্রিয় তাকে ধরে রেখে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। তিনি বলেন আমি সংসদ সদস্য না হয়েও বিগত দিনে এলাকাবাসীর পাশে ছিলাম এবং আগামীতেও থাকবো। সংসদে এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে পারলে উন্নয়নে ভূমিকা সব সময় বেশি থাকবে বলে তিনি জানান।

