আশিকুর রহমান সিয়াম সাভার উপজেলা প্রতিনিধিঃ
সাভার পৌরসভার দুই কর্মকর্তার মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে, যা ঘুষ সংক্রান্ত একটি ফাইলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২০ আগস্ট, বুধবার দুপুরে সাভার পৌর কার্যালয়ে সহকারী কর আদায়কারী নজরুল ইসলাম এবং কর নির্ধারক নাজমুল হাসানের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পৌর প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের জুন মাসে, যখন দক্ষিণ দরিয়াপুর মৌজার একটি হোল্ডিংয়ের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য এক বাসিন্দা আবেদন করেন। অভিযোগ রয়েছে, নজরুল ইসলাম আবেদনকারীর কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ হিসেবে গ্রহণ করেন, অথচ মাত্র ১,১৫০ টাকার রশিদ প্রদান করেন। এরপরও সংশ্লিষ্ট ফাইলটি পেন্ডিং অবস্থায় রেখে দেন, যা নিয়ে পৌরসভার অভ্যন্তরে অসন্তোষ তৈরি হয়।
বুধবার দুপুরে নাজমুল হাসান ফাইলটির অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে, তাদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে এবং এক পর্যায়ে শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার সময় উপস্থিত সহকারী কর নির্ধারক তন্দ্রা ইয়াসমিন জানান, নাজমুল ও নজরুলের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয় এবং পরে তারা একে অপরকে আঘাত করেন। তিনি আরও বলেন, মূলত একটি ফাইলকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা ঘটে। তবে ঘুষের টাকার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মারামারি হয়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাজমুল হাসান বলেন, “একটি ফাইলের কাজ না করায় তাকে জিজ্ঞাসা করতে গিয়ে নজরুল আমার হাতে ঘুষি মারে, আমি মারতে চাইনি।” অন্যদিকে নজরুল ইসলাম জানান, “এটি আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ছিল, মারামারি কিছু হয়নি।”
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নজরুল ইসলামের মাথা থেকে রক্ত ঝরছে, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তোলে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি অফিসে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে এবং এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণের সেবাপ্রাপ্তি কতটা বিঘ্নিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাভার পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুবকর সরকার বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ইতোমধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

