নিজস্ব প্রতিনিধি: পর্যটন নগরী রাঙ্গামাটির কাঠালতলী ফিসারী সংযোগ সড়ক বাঁধের পাশে গড়ে উঠছে আধুনিক ওয়াকওয়ে ও সৌন্দর্যবর্ধন গার্ডেন। প্রকল্পের কাজ এখনো চলমান থাকলেও কাপ্তাই লেকবেষ্টিত এ সংযোগ সড়কের সৌন্দর্য ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। নানা প্রজাতির ফুল-গাছপালা রোপণ ও আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের ফলে সড়কটি পেয়েছে নতুন রূপ। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে সময় কাটাচ্ছেন।
রাঙ্গামাটি সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, সওজের অর্থায়নে প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সড়কের অপর পাশে একটি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কাজ চলমান এবং বাঁধের অপর প্রান্তও নতুনভাবে সাজানো হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ প্রকল্প সম্পন্ন হলে শহরের সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠবে এটি। একই সঙ্গে স্থানীয়দের জন্য এটি হবে হাঁটা ও জগিং করার একটি মনোরম স্থান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকল্পের বেশিরভাগ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে।
পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা এক পর্যটক বলেন, নতুনভাবে সাজানো সড়কটি রাঙ্গামাটির সৌন্দর্যকে আরো সমৃদ্ধ করেছে। তিনি আরও নতুন স্পট তৈরির মাধ্যমে শহরকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, এ প্রকল্পটি গড়ে উঠেছে পূর্বে বাস্তবায়িত একটি নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের ওপর ভিত্তি করে। কাপ্তাই হ্রদের ভাঙন রোধে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় কাঠালতলী ফিসারী সংযোগ বাঁধ। এর ফলে সড়কের একপাশে বিস্তৃত জায়গা তৈরি হয়। যাতে অবৈধ দখল না ঘটে, সে উদ্দেশ্যে সওজ তাদের নিজস্ব মেইন্টেনেন্স ফান্ড থেকে সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেয়। এলাকাবাসী এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
ইতোমধ্যে সড়ক বাঁধ এলাকা শহরবাসীর জন্য এক নতুন বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে ঘুরতে আসছেন। স্থানীয়রা জানান, “এই জায়গাটা শহরের মানুষের জন্য এক নতুন বিনোদন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, আমরা খুবই আনন্দিত।”
সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পটির মাধ্যমে শুধু শহরের অবকাঠামোই উন্নত হয়নি, বরং রাঙ্গামাটির পর্যটন শিল্পেও যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। সড়ক ও জনপদ বিভাগের এ উদ্যোগের মতো যদি অন্যান্য সংস্থাও পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, তবে পাহাড়ের পর্যটন শিল্প আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সবাই।

