মোঃ সবুজ বাঙ্গালী কিশোরগঞ্জ থেকে:
পরিবেশ দূষণ রোধ ও আইন অমান্যকারী ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলা ও কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে মোট তিনটি অবৈধ ইটভাটা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে মঙ্গলবার দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে নিকলী উপজেলার দুটি এবং কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের একটি ইটভাটার সব কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ভেঙে দেওয়া ইটভাটাগুলো হলো— নিকলী উপজেলার আলতাফ ব্রিক ফিল্ড, কামাল ব্রিক ফিল্ড এবং কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের শাপলা ব্রিক ফিল্ড। পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, এসব ইটভাটা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ ছাড়পত্র ও বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছিল।
অভিযান চলাকালে ভাটাগুলোর চিমনি, কিলন, ইট পোড়ানোর চুল্লি ও অন্যান্য অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন,
“এই তিনটি ইটভাটা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে পরিচালিত হচ্ছিল। এর ফলে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছিল, বায়ুদূষণ বাড়ছিল এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছিল। আদালতের নির্দেশনা ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে ভাটাগুলো ভেঙে চূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিকলী উপজেলার এক বাসিন্দা বলেন,
“ইটভাটার ধোঁয়ায় এলাকার মানুষ শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগছিল। ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছিল। প্রশাসনের এই উদ্যোগে আমরা সন্তুষ্ট।”
কটিয়াদীর করগাঁও ইউনিয়নের এক কৃষক জানান,
“ভাটার কারণে জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছিল। এখন আশা করছি আমাদের জমি ও পরিবেশ কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে।”
ইটভাটায় কর্মরত এক শ্রমিক বলেন,
“ভাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা কাজ হারিয়েছি। তবে অবৈধ হলে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়াই স্বাভাবিক। আমাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে পরিবার নিয়ে বাঁচা সহজ হবে।”
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অনুমোদনহীন ও পরিবেশ বিধি লঙ্ঘনকারী ইটভাটার বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ জেলাজুড়ে নিয়মিত অভিযান চলবে। কোনোভাবেই পরিবেশ ধ্বংস করে শিল্প কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না।

