ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি:
এই তীব্র শীতে একটি কম্বল কিংবা একটি গরম কাপড়—শুধু ত্রাণ নয়, এটি হয়ে উঠেছে একজন মানুষের জীবনের উষ্ণতা। নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় শীতে কাঁপতে থাকা অসহায় মানুষের নীরব কান্না যেন সমাজ ও রাষ্ট্রের বিবেককে নাড়া দিচ্ছে।
হিমালয়ের সন্নিকটে অবস্থানের কারণে ডোমার উপজেলায় শীতের তীব্রতা প্রতিবছরের মতো এবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এখানকার জনজীবন। দিনের আলো ফোটার আগেই কনকনে ঠান্ডায় কাঁপতে শুরু করে দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক, কৃষকসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতের প্রকোপ আরও বেড়ে যায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খোলা আকাশের নিচে কিংবা দোকানের বারান্দায় আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলো গরম কাপড়ের অভাবে শীতের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
রবিবার রাতে গোসাইগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ সংলগ্ন বসবাসকারী প্রায় সত্তর বছর বয়সী অটো ভ্যানচালক ‘চৈতু’ জড়সড় কণ্ঠে বলেন,
“শীতে শরীর কাঁপে, রাতে ঘুমাতে পারি না। গায়ে দেওয়ার মতো একটা গরম কাপড় থাকলেও বাঁচতাম।”
তার কণ্ঠে জমে থাকা কষ্ট যেন নীরবে সমাজের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়।
শুধু শহরাঞ্চল নয়, ডোমার উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর চিত্র আরও করুণ। বহু দরিদ্র পরিবারের শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র। শীতের ভয়ে অনেক শিশু স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করছে। অপরদিকে বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশিসহ নানা শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক রোগীর চাপ বেশি।
স্থানীয়রা জানান, কিছু ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সীমিত পরিসরে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেও তা চাহিদার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। অনেক অসহায় মানুষ এখনো কোনো ধরনের সহায়তা পাননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনো পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
এদিকে জরুরি ভিত্তিতে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ, বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অন্যদিকে শীতে জুবুথুবু হয়ে পড়া ডোমারের মানুষ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী গরম কাপড় কিনতে ভিড় করছেন ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান ও বিভিন্ন মার্কেটে। তবে এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গরম কাপড়ের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ডোমার উপজেলার শীতার্ত মানুষের পাশে দ্রুত সমাজের বিত্তবান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রশাসনের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।

